রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬ | ১৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২১ রবিউস সানী, ১৪৪৮ | রাত ১১:০৭:০৪
শিরোনাম
● প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ● তেজগাঁও কলেজ সরকারি করার দাবিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে স্মারকলিপি ● যানবাহনের গ্যাসের দাম বাড়াল বিইআরসি ● হাসপাতালে শৃঙ্খলা ফেরাতে মাঠে ৫৪ কর্মকর্তা ● কূটনীতিক বহিষ্কারের মার্কিন দাবি নাকচ আরাঘচির ● সিনাইয়ে গাজার ৪০০ শিশুর স্কুল গড়লেন ফিলিস্তিনি শিক্ষক ● ২০ টাকার আলু ১৪ টাকায় ● এআই প্রযুক্তি ব্যবহারকারী ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ তদারকিতে কিম ● ইন্দোনেশিয়ায় ২ গণ্ডারের গর্ভধারণে বিপন্ন প্রজাতি রক্ষায় নতুন আশার আলো ● সাত শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ খুলবে না ইরান ● প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ● তেজগাঁও কলেজ সরকারি করার দাবিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে স্মারকলিপি ● যানবাহনের গ্যাসের দাম বাড়াল বিইআরসি ● হাসপাতালে শৃঙ্খলা ফেরাতে মাঠে ৫৪ কর্মকর্তা ● কূটনীতিক বহিষ্কারের মার্কিন দাবি নাকচ আরাঘচির ● সিনাইয়ে গাজার ৪০০ শিশুর স্কুল গড়লেন ফিলিস্তিনি শিক্ষক ● ২০ টাকার আলু ১৪ টাকায় ● এআই প্রযুক্তি ব্যবহারকারী ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ তদারকিতে কিম ● ইন্দোনেশিয়ায় ২ গণ্ডারের গর্ভধারণে বিপন্ন প্রজাতি রক্ষায় নতুন আশার আলো ● সাত শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ খুলবে না ইরান

সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে চায় বাংলাদেশ: তারেক রহমান

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৯
শেয়ার: mail
সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে চায় বাংলাদেশ: তারেক রহমান

জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলায় দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের নাগরিকদের ক্ষমতায়ন ছাড়া কোনো রাষ্ট্রই প্রকৃত অর্থে শক্তিশালী হতে পারে না। গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহিতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ভিত্তিতেই দেশের উন্নয়ন এগিয়ে নিতে হবে। দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন

বাংলাদেশের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগিয়ে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশকে ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেও কাজ করার কথা জানান তিনি।

তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক ও উদ্ভাবকদের জন্য সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, স্টার্টআপ খাতে সহায়তার জন্য চলতি অর্থবছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয়, অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নও প্রয়োজন, যাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল দেশের প্রতিটি পরিবার ও নাগরিকের কাছে পৌঁছায়।

নারী, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা

দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরিকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং স্নাতক পর্যন্ত নারীদের বিনাবেতনে শিক্ষার সুযোগের কথাও জানান তিনি।

অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এসব উদ্যোগকে সমন্বিত করে ভবিষ্যতে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খেলাধুলাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। কর্মমুখী শিক্ষা, কারিগরি দক্ষতা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয়ে দুপুরের খাবারসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

প্রযুক্তির বৈষম্য কমানোর আহ্বান

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বায়োটেকনোলজি ও বিজ্ঞানের দ্রুত অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, প্রযুক্তির সুবিধা যেন বৈষম্যের নতুন কারণ না হয়।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। এআই ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুফল কাজে লাগাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

এলডিসি উত্তরণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা

বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণকে টেকসই করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি অর্থায়ন, বাজারে প্রবেশাধিকার, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ধারাবাহিক সহায়তার আহ্বান জানান।

আঞ্চলিক বাণিজ্য, যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় কোনো দেশ একা এগিয়ে যেতে পারে না।

রোহিঙ্গা সংকট ও ফিলিস্তিন প্রসঙ্গ

রোহিঙ্গা সংকটকে বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি চাপ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। সংকটের উৎস মিয়ানমারে হওয়ায় এর সমাধানও সেখানেই নিহিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনকে সংকটের সমাধান হিসেবে তুলে ধরে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চান তিনি।

একই সঙ্গে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাসহ ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

জলবায়ু ও শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের অবস্থান

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় জলবায়ু ন্যায়বিচার, অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তায় আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ জোরদারের আহ্বান জানান তারেক রহমান। বৃক্ষরোপণ, সৌর ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার এবং পানি সংরক্ষণে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসনের পাশাপাশি অভিবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান এবং এতে বাংলাদেশি নারীদের অংশগ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের প্রতিপাদ্য—‘রিস্টোরিং ট্রাস্ট, ম্যানেজিং ট্রান্সফরমেশন: অ্যা ইউনাইটেড নেশনস দ্যাট ডেলিভারস ফর অল’—এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বহুপক্ষীয়তার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

ভাষণের শেষদিকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ, নারীদের আত্মনির্ভরতা এবং শিশুদের বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে—‘সবার আগে বাংলাদেশ : সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই প্রত্যয়।

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে চায় বাংলাদেশ: তারেক রহমান

বিস্তারিত কমেন্টে