দেশের বাজারে এক লাফে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর পর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) বলছে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কারণ সংস্থাটির বিপুল লোকসান। মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত মাত্র ছয় মাসে জ্বালানি তেলে বিপিসির প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বা লোকসান হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম।
সোমবার দুপুরে তিনি জানান, ভর্তুকির চাপ কমাতেই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। নতুন দামের ফলে বিপিসির মাসিক ঘাটতি প্রায় ৯২০ কোটি টাকা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। অর্থাৎ সরকারের হিসাবে মূল্যবৃদ্ধির একটি বড় উদ্দেশ্য হলো জ্বালানি খাতে বিপিসির আর্থিক চাপ সামাল দেওয়া।
এর আগে রোববার দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানোর ঘোষণা দেয় জ্বালানি বিভাগ। ঘোষণার পর মধ্যরাত থেকেই ভোক্তা পর্যায়ে নতুন দামে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হয়েছে।
বর্তমানে প্রতি লিটার অকটেন ১৬৫ টাকা, ডিজেল ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা ও কেরোসিন ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ আগের দামের তুলনায় প্রতিটি জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রেই ভোক্তাকে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সরাসরি প্রভাব শুধু পাম্পে গিয়ে তেল কেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরিবহন খরচ থেকে শুরু করে পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ, অর্থনীতির বিভিন্ন পর্যায়ে এর প্রভাব পড়তে পারে। পরিবহন ব্যয় বাড়লে পণ্য পরিবহনের খরচও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে শিল্পকারখানা ও বিভিন্ন উৎপাদন খাতে জ্বালানি ব্যয় বেড়ে গেলে তার প্রভাব পণ্যের দামেও পড়তে পারে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত বাজারদরেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন করে চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে পরিবহন ব্যয় ও উৎপাদন খরচ বাড়লে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম সমন্বয়ের চাপ তৈরি হতে পারে।
ফলে বিপিসির ভর্তুকির চাপ কমানোর সিদ্ধান্তের বিপরীতে সাধারণ ভোক্তার ব্যয়ের চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সরকারের দৃষ্টিতে একদিকে এটি বিপিসির ভর্তুকির বোঝা কমানোর পদক্ষেপ হলেও, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে দৈনন্দিন ব্যয়ের নতুন চাপ।
kalprakash.com/IM