বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৭ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১০ রবিউস সানী, ১৪৪৮ | দুপুর ১:৫৫:২৮
শিরোনাম
নেত্রকোনায় মাদ্রাসা শিক্ষকের ভিডিও ভাইরাল, অব্যাহতি পাকিস্তানে পেট্রলের দাম ১০০০ রুপি ছাড়াতে পারে: মন্ত্রী বাড়লো বাসভাড়া, যা আছে প্রজ্ঞাপনে বাস-মিনিবাসের ভাড়া বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি চলন্ত মেট্রোরেলের দরজা খুলে যাওয়ায় বিপত্তি জাতিসংঘে ট্রাম্পের সঙ্গে খলিলুর রহমানের মতবিনিময় নারী-শিশু নির্যাতন মামলায়: হাইকোর্টের নির্দেশনা এমপি নজরুল-মাকছুদার জিজ্ঞাসাবাদে মিলল নতুন তথ্য মাদক কারবারিদের তাবলিগে পাঠালেন কচুয়ার ওসি এইচএসসি ফল প্রকাশ নিয়ে যা জানাল শিক্ষা বোর্ড নেত্রকোনায় মাদ্রাসা শিক্ষকের ভিডিও ভাইরাল, অব্যাহতি পাকিস্তানে পেট্রলের দাম ১০০০ রুপি ছাড়াতে পারে: মন্ত্রী বাড়লো বাসভাড়া, যা আছে প্রজ্ঞাপনে বাস-মিনিবাসের ভাড়া বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি চলন্ত মেট্রোরেলের দরজা খুলে যাওয়ায় বিপত্তি জাতিসংঘে ট্রাম্পের সঙ্গে খলিলুর রহমানের মতবিনিময় নারী-শিশু নির্যাতন মামলায়: হাইকোর্টের নির্দেশনা এমপি নজরুল-মাকছুদার জিজ্ঞাসাবাদে মিলল নতুন তথ্য মাদক কারবারিদের তাবলিগে পাঠালেন কচুয়ার ওসি এইচএসসি ফল প্রকাশ নিয়ে যা জানাল শিক্ষা বোর্ড

নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২২
শেয়ার: mail
নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা ঐতিহাসিক নিবন্ধ ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে। একই সঙ্গে তাঁর তৎকালীন ঐতিহাসিক একটি ডায়েরির দুর্লভ ছবিও বইয়ে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

এনসিটিবি জানিয়েছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ পাঠ্যপুস্তকে নতুন একটি অধ্যায় হিসেবে এটি স্থান পাচ্ছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অন্যতম স্মৃতিকথা হিসেবে বহুল আলোচিত এ দলিলটিকে পাঠ্যভুক্ত করার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি)।

বিষয়টি নিশ্চিত করে এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধটি অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে এনসিসিসি চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে যাঁর যতটুকু অবদান, তা নিরপেক্ষ ও নির্মোহভাবে পাঠ্যবইয়ে তুলে ধরতেই সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে।

এ বিষয়ে বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, জিয়াউর রহমানের লেখা এই নিবন্ধের ঐতিহাসিক মূল্য অপরিসীম। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা স্বাধীনতা সংগ্রামের সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন হতে পারবে। পাঠ্যবইয়ে এটি অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত যৌক্তিক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শাহ শামীম আহমেদ বলেন, এ নিবন্ধ অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ ঘটনা জানার সুযোগ পাবে। অতীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে যেভাবে একপাক্ষিক ইতিহাস চর্চা করা হয়েছে, বর্তমান সরকারের নির্মোহ ইতিহাস তুলে ধরার দৃষ্টিভঙ্গি সেই মানসিকতার অবসান ঘটাবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে এনসিসিসির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বলেন, সভায় নিবন্ধটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে।

এনসিটিবির কারিকুলাম সংশ্লিষ্টরা জানান, নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য পাঠ্যপুস্তকের ২২ নম্বর গদ্যের লেখক পরিচিতি অংশে জিয়াউর রহমানকে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান, ‘জেড ফোর্স’র অধিনায়ক, ১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ও বীর উত্তম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সাথে মুক্তিযুদ্ধকে সর্বাত্মক জনযুদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত করে বলা হয়েছে, ২৫ মার্চের ভয়াবহ গণহত্যার পর শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেপ্তার হলে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল মুক্তিকামী মানুষের জন্য তূর্যধ্বনির মতো।

এনসিটিবি আরও জানায়, প্রবন্ধটির মূল বর্ণনা শুরুর আগে একটি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সেখানে ১৯৭২ সালে ‘দৈনিক বাংলা’য় প্রকাশিত ‘একটি জাতির জন্ম’ এবং ১৯৮০ সালে অধুনালুপ্ত ‘দৈনিক দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধ দুটিকে মুক্তিযুদ্ধের অনন্য দলিল হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো একক ব্যক্তি বা দলের কৃতিত্ব নয়। এতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মওলানা ভাসানী, শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান এবং প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদকে অনিবার্য ঐতিহাসিক নাম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রবন্ধে ১৯৭১ সালের মার্চে চট্টগ্রাম থেকে সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা ও সম্মুখসমরের আত্মত্যাগের এক অনন্য আলেখ্য চিত্রিত হয়েছে।

নিবন্ধে সশস্ত্র দায়িত্ব গ্রহণের অনুভূতির কথা বর্ণনা করতে গিয়ে জিয়াউর রহমান লেখেন, সবাই আমরা যুদ্ধ করেছি—সৈনিক, জনগণ সবাই। জাতির চরম সংকটের মুহূর্তে কাউকে না কাউকে সামনে এগিয়ে আসতে হয়, নিতে হয় দায়িত্ব। আমি কেবল সেই দায়িত্ব পালন করেছি। নেতারা যখন উধাও হয়ে গেল, সিদ্ধান্ত দেওয়ার কেউ থাকল না, তখন জাতির পক্ষ থেকে সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত আমাকে ঘোষণা করতে হলো। ২৬ মার্চ রাতের প্রথম প্রহরে সেই চূড়ান্ত সময়টি এলো, যার জন্য গোটা মাস আমরা রুদ্ধশ্বাস হয়ে প্রতীক্ষা করছিলাম।

চট্টগ্রামে পাকিস্তানি বাহিনীর ষড়যন্ত্রের বিবরণ দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ১ মার্চ থেকে ২০তম বেলুচ রেজিমেন্টের রহস্যজনক গতিবিধি দেখে আমরা সুস্পষ্ট আঁচ করতে পারছিলাম কী ঘটতে যাচ্ছে। আগ্রাবাদের এক ব্যারিকেডের সামনে ট্রাক থেমে গেলে মেজর খালিকুজ্জামানের সঙ্গে দেখা হয়। তিনি অনুচ্চস্বরে জানান, পাকিস্তানিরা শহরে ও সেনানিবাসে হামলা চালিয়ে বহু নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে। যে সময়ের জন্য অপেক্ষা করছিলাম, তা এসে গেছে জেনে সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলাম—‘উই রিভোল্ট’। নির্দেশ দিলাম ষোলশহরে গিয়ে পাকিস্তানি অফিসারদের আটক করতে এবং সবাইকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাখতে।

ষোলশহরে গিয়ে বিদ্রোহের ডাক প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, সেখানে গিয়ে একজনের কাছ থেকে রাইফেল কেড়ে নিলাম। ব্যাটালিয়নের সব অফিসার আর জোয়ানদের এক জায়গায় জড়ো করে সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিয়ে বললাম, আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধে নেমেছি। সঙ্গে সঙ্গে সবাই উল্লাসধ্বনি করে সাড়া দিল এবং সশস্ত্র স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। রাত তখন ২টা ১৫ মিনিট, ২৬ মার্চ ১৯৭১।

পরবর্তীতে পটিয়ার পাহাড়ে প্রথম মুক্তাঞ্চল গঠন এবং ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ঐতিহাসিক স্বাধীনতা ঘোষণার স্মৃতিচারণ করে জিয়াউর রহমান লেখেন, দিনটি ছিল ২৭ মার্চ। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রেডিও স্টেশনে এলাম। হাতের কাছে একটি এক্সারসাইজ খাতা পাওয়া গেল। তার একটি পৃষ্ঠায় দ্রুতহাতে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম ঘোষণা লিখলাম—স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বভার নিয়েছি। বেতার তরঙ্গে সে ঘোষণা বিশ্বের প্রতিটি রেডিওতে ধরা পড়ল এবং বিশ্ববাসী শুনল, বাংলাদেশ দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’

বিস্তারিত কমেন্টে