রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ | ৭ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ৯ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | সন্ধ্যা ৬:১৭:০৩

ইসরায়েলে ভারতীয় কেয়ারগিভারকে কুপিয়ে হত্যা, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১৮
শেয়ার: mail
ইসরায়েলে ভারতীয় কেয়ারগিভারকে কুপিয়ে হত্যা, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলে এক ভারতীয় কেয়ারগিভারকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় দেশটিতে কর্মরত হাজারো ভারতীয় অভিবাসী শ্রমিকের নিরাপত্তা ও জীবনঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কেয়ারগিভার রাজীব আচার্যকে হত্যার ঘটনায় ন্যায়বিচার, দায়ীদের জবাবদিহি এবং কর্মীদের সার্বিক সুরক্ষার দাবিতে ইসরায়েল সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন সেখানে কর্মরত ভারতীয় শ্রমিকরা।

গত ২৩ জুলাই প্রবীণ এক দম্পতির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা রাজীব আচার্যকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বারবার আঘাত করে হত্যা করার অভিযোগে ওই দম্পতির নাতি অ্যাভিওর জাকেনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, জাকেনের বিরুদ্ধে দেশটির দণ্ডবিধি অনুযায়ী পূর্বপরিকল্পিত হত্যার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে।

শ্রমিকরা ইসরায়েল সরকারের কাছে মামলাটি যথাযথভাবে পরিচালনা, নিহত আচার্যের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভারতীয় বিদেশি শ্রমিকদের সব ধরনের সহিংসতা ও নির্যাতন থেকে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।

হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক মাস পর তেল আবিবে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে। দূতাবাসের ভাষ্যমতে, একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ পরিস্থিতি নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভারতীয় শ্রমিকদের আবেদনে বিশেষভাবে বাসা-বাড়িতে কর্মরত কেয়ারগিভারদের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। কারণ এসব কর্মী যে বাড়িতে কাজ করেন, সাধারণত সেখানেই তাঁদের সার্বক্ষণিক বসবাস করতে হয়।

২০২৩ সালের মে মাসে ভারত সরকার ইসরায়েলে ৪২ হাজারের বেশি শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে একটি চুক্তি করে। এর মধ্যে ৩৪ হাজার নির্মাণ শ্রমিক এবং ৮ হাজার প্রবীণদের পরিচর্যার কাজে নিয়োজিত হওয়ার কথা ছিল। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি শ্রমিকের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করলে দেশটিতে তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দেয়। ফলে ভারত থেকে শ্রমিক নেওয়ার হার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত নতুন চুক্তি অনুযায়ী ২০২৮ সালের মধ্যে ইসরায়েলে সর্বোচ্চ ১ লাখ ভারতীয় শ্রমিক যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে যুদ্ধের মুখে ভারতীয় শ্রমিকদের এমন ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশে পাঠানো নিয়ে ভারতের ট্রেড ইউনিয়ন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো শুরু থেকেই উদ্বেগ ও আপত্তি জানিয়ে আসছে।

সূত্র: মিডলইস্ট আই

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

ইসরায়েলে ভারতীয় কেয়ারগিভারকে কুপিয়ে হত্যা, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

বিস্তারিত কমেন্টে