শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬ | ৬ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ৮ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | রাত ১:০০:২৯

দেবিদ্বারে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ৭ মাসে গ্রেপ্তার ৯৩, আগস্টজুড়ে ‘অল-আউট অ্যাকশন’

মেহেদী হাসান রিয়াদ
প্রকাশ: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫১
শেয়ার: mail
দেবিদ্বারে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ৭ মাসে গ্রেপ্তার ৯৩, আগস্টজুড়ে ‘অল-আউট অ্যাকশন’

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

সীমান্তবর্তী ভৌগোলিক অবস্থান ও মাদকের সহজলভ্যতাকে কাজে লাগিয়ে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে মাদক সিন্ডিকেট। ভারতের সীমান্তবর্তী বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া হয়ে দেবিদ্বারে অবাধে ঢুকছে ইয়াবা, গাঁজা, ফেন্সিডিল, নিষিদ্ধ স্কাফ (ESKuf) সিরাপ ও বিদেশি মদ। তবে মাদকের করাল গ্রাস থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেবিদ্বার থানা পুলিশ।

দেবিদ্বার থানা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত গত সাত মাসে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ৬২টি মাদক মামলা দায়ের এবং ৯৩ জন কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ সময় জব্দ করা হয়েছে ৫ হাজার ৫২২ পিস ইয়াবা, ১০৬ কেজি ৫৫০ গ্রাম গাঁজা, ৩টি জীবন্ত গাঁজার গাছ ও ১ হাজার বোতল নিষিদ্ধ স্কাফ সিরাপ। পাশাপাশি মাদক বিক্রির নগদ ১ লাখ ৮ হাজার ৯৭০ টাকা, ৫টি মোবাইল ফোন এবং পাচারে ব্যবহৃত ১টি কাভার্ডভ্যান, ১টি মোটরসাইকেল, ১টি প্রাইভেটকার ও ১টি হাইচ গাড়ি জব্দ করা হয়।

মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়—জানুয়ারিতে ৬ মামলায় ১৩ জন গ্রেপ্তার ও ৬০ কেজি গাঁজা জব্দ; ফেব্রুয়ারিতে ৫ মামলায় ১৩ জন গ্রেপ্তার ও ১ হাজার বোতল স্কাফ উদ্ধার; মার্চে ৯ মামলায় ১৪ জন; এপ্রিলে ৯ মামলায় ১২ জন; মে মাসে ১১ মামলায় ১৪ জন; জুনে ৭ মামলায় ৮ জন এবং জুলাই মাসে সর্বোচ্চ ১৫টি মামলায় ১৯ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব মাদক গ্রহণের ফলে যুবসমাজ মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি, লিভার ও কিডনি বিকল এবং তীব্র মানসিক বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া পারিবারিক অশান্তির পাশাপাশি চুরি, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধ বৃদ্ধির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই বিস্তার।

মাদকের এই বিস্তার রুখতে চলতি আগস্ট মাসজুড়ে ‘অল-আউট অ্যাকশন’ ও বিশেষ সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে পুলিশ। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও কুমিল্লার পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় দেবিদ্বারে একদিন পর পর জনসচেতনতামূলক র‍্যালি ও সমাবেশ এবং পর্যায়ক্রমে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি তথ্যদাতাদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থানায় স্থাপন করা হয়েছে বিশেষ ‘গোপন অভিযোগ বক্স’, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ নাম প্রকাশ না করেই তথ্য দিতে পারছেন।

দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “দেবিদ্বারকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তবে কেবল আইনি প্রক্রিয়ায় মাদক পুরোপুরি নির্মূল সম্ভব নয়; প্রয়োজন পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিরোধ। অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ, সন্তানের চলাফেরা ও সঙ্গীদের খেয়াল রাখুন। মাদকের তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করুন, তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।”

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

দেবিদ্বারে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ৭ মাসে গ্রেপ্তার ৯৩, আগস্টজুড়ে ‘অল-আউট অ্যাকশন’

বিস্তারিত কমেন্টে