ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বা কূটনৈতিকভাবে নয়, দেশটির আদালতই নেবে বলে জানিয়েছেন ভারতের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করার পর বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান ভারতীয় কর্মকর্তারা। ভারতের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রত্যর্পণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের বিচার বিভাগ। আইনি প্রক্রিয়ায় খতিয়ে দেখা হবে, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভারতের আইনেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না।
ভারতের প্রত্যর্পণ আইন ১৯৬২ অনুযায়ী, প্রত্যর্পণ অনুরোধের পর একজন তদন্ত ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হতে পারে। ম্যাজিস্ট্রেটের অনুসন্ধানে অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি মিললে প্রত্যর্পণের সুপারিশ করা যায়; অন্যথায় অভিযুক্তকে দায়মুক্তি দেওয়ার বিধান রয়েছে। এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০১৩ সালের দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী ঢাকার পাঠানো নথি ও অনুরোধ নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা সম্প্রতি এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে চলতি বছরের ডিসেম্বরেই দেশে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। ফলে তাঁর প্রত্যর্পণ ও প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
kalprakash.com/IM