প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, ঝরে পড়ার হার হ্রাস এবং পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়লেও সরকারের ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচিতে শতভাগ শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত না থাকায় সংকট দেখা দিচ্ছে। বর্তমানে মোট শিক্ষার্থীর মাত্র ৯০ শতাংশের জন্য খাবার বরাদ্দ থাকায় প্রায়ই উপস্থিতির তুলনায় খাবারের টান পড়ছে। এ অবস্থায় কর্মসূচিটিতে শতভাগ শিক্ষার্থীকে দ্রুত অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
যশোরের কেশবপুর, অভয়নগর ও ঝিকরগাছা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র উঠে এসেছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যানুযায়ী, এই তিন উপজেলার মোট ৪০৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে পাইলট প্রকল্পের আওতায় ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচি চলছে। এর মধ্যে ঝিকরগাছায় ১৩১টি, অভয়নগরে ১১৭টি এবং কেশবপুরে ১৫৮টি বিদ্যালয়ের ৫৯ হাজার ৯১ জন শিক্ষার্থীকে সপ্তাহে পাঁচ দিন পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হচ্ছে। খাদ্যতালিকায় রয়েছে সেদ্ধ ডিম, বনরুটি, বিস্কুট, কলা ও তরল দুধ।
সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে গঠিত পাঁচ সদস্যের খাদ্য মনিটরিং কমিটি খাবারের মান ও বণ্টন তদারকি করছে। খাবার সরবরাহের দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে বেসরকারি সংস্থা ‘সুশীলন’সহ কয়েকটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান।
কেশবপুরের মজিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুদেব কুমার দেবনাথ ও অভয়নগরের অভিভাবক নাসিমা বেগম জানান, পুষ্টিকর খাবার পেয়ে শিশুরা দুপুরের ক্লান্তিমুক্ত থাকছে এবং বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে। এতে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির হারও বেড়েছে। তবে শতভাগ বরাদ্দ না থাকায় অনেক সময় খাবার ভাগ করে দিতে গিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি মো. নাজমূল আলম এবং যশোর জেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. শাহীনুর রহমান বলেন, নতুন প্রজন্মের সুস্বাস্থ্য ও মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতে উপস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অবিলম্বে শতভাগ শিক্ষার্থীকে এ সুবিধার আওতায় আনা প্রয়োজন।
সুশীলনের উপপরিচালক শাহিনা পারভীন জানান, শিক্ষক ও অভিভাবকদের দাবির বিষয়টি তাঁরা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
কেশবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, এটি একটি পাইলট প্রকল্প হওয়ায় প্রতিদিনের উপস্থিতির তারতম্য অনুযায়ী পাশের বিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থাপনা চালানো হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে প্রকল্পটি আরও ফলপ্রসূ ও সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।
kalprakash.com/IM