মানুষের পার্থিব জীবনের সবচেয়ে তীব্র মোহগুলোর একটি হলো সম্পদের লিপ্সা। বৈষয়িক লোভ ও স্বার্থান্ধতার কারণে পরিবারে রক্ত ও হৃদয়ের পবিত্র সম্পর্কগুলো ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। আমাদের সমাজে সবচেয়ে পরিচিত অন্যায়গুলোর অন্যতম হলো ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকারীদের হক আত্মসাৎ করা। বিশেষ করে পৈতৃক সম্পত্তিতে বোন, এতিম ও দুর্বল স্বজনদের প্রাপ্য অংশ বঞ্চিত করাকে অনেকেই অপরাধ হিসেবে গণ্য করেন না, যা শরীয়তের দৃষ্টিতে মারাত্মক পাপ।
পবিত্র কুরআনের সূরা নিসায় মিরাস বা উত্তরাধিকার বণ্টনের সুনির্দিষ্ট বিধান জারি করে মহান আল্লাহ বোন ও অন্য উত্তরাধিকারীদের অধিকার নিশ্চিত করেছেন। ইসলামে অধিকারকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়েছে—হাক্কুল্লাহ (আল্লাহর হক) ও হাক্কুল ইবাদ (বান্দার হক)। আল্লাহ তায়ালা ইচ্ছা করলে তাঁর নিজের হক ক্ষমা করতে পারেন, কিন্তু বান্দার হক যতক্ষণ না সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ক্ষমা করবে, ততক্ষণ স্বয়ং আল্লাহও ক্ষমা করবেন না।
পবিত্র কুরআনে অন্যায়ভাবে সম্পদ দখলের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, “যারা অন্যায়ভাবে এতিমদের সম্পদ আত্মসাৎ করে, তারা মূলত নিজেদের পেটে আগুনই ভর্তি করছে এবং অচিরেই তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” (সূরা নিসা, আয়াত: ১০)। আল্লাহ আরও ঘোষণা করেন, “হে বিশ্বাসীরা! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায় ও অবৈধভাবে গ্রাস কোরো না…” (সূরা নিসা, আয়াত: ২৯)।
অন্যের জমি বা সম্পত্তি জবরদখল করার পরকালীন ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, “যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কারও এক বিঘত পরিমাণ জমিও গ্রাস করবে, কিয়ামতের দিন সাত স্তবক জমিন তার গলায় বেড়ি হিসেবে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।” (সহিহ বুখারি: ২৪৫৩)। এমনকি বিচারক বা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে চক্রান্তের মাধ্যমে অন্যের হক কেড়ে নেওয়াও ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
পার্থিব ধন-সম্পদ, জমি ও প্রাচুর্যের প্রকৃত মালিক মহান আল্লাহ; মানুষের অধিকার কেবলই সাময়িক পরীক্ষা মাত্র। জাগতিক লোভ-লালসার উন্মাদনায় প্রিয়জনের অধিকার নষ্ট করে চিরস্থায়ী জাহান্নামের শাস্তি ডেকে না এনে, কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশ অনুযায়ী ওয়ারিশদের যথাযথ হক দ্রুত বুঝিয়ে দেওয়াই প্রতিটি মুমিনের ঈমানি দায়িত্ব।
kalprakash.com/IM