সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের ক্ষোভ, সংবেদনশীলতা ও আবেগকে পুঁজি করে বিপুল অর্থ আয় করছেন একশ্রেণির কনটেন্ট নির্মাতা। ইন্টারনেট দুনিয়ায় বিতর্কিত ও উসকানিমূলক পোস্ট তৈরি করে আলোচনায় আসা এসব নির্মাতাদের বলা হয় ‘রেজ বেইটার’ (Rage Baiter)। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও উসকানিমূলক পোস্টের মাধ্যমে প্রতি মাসে ১৭ হাজার মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২১ লাখ টাকা আয় করছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক তরুণ।
নিউইয়র্ক পোস্টের বরাতে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপির বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর কোভনটে ডেভন প্রিঙ্গল এআই প্রযুক্তির সাহায্যে ভুয়া ছবি ও গল্প তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। সম্প্রতি তিনি ‘জায়াহ ভেলোর’ নামের এক ছদ্মপরিচয়ে একজন ক্ষুব্ধ মায়ের রূপ ধারণ করে একটি পোস্ট করেন। সেখানে এআই দিয়ে তৈরি ৭ বছর বয়সী এক শিশুর স্কার্ট পরা ছবি যুক্ত করে দাবি করা হয়, পোশাক ‘অনুপযুক্ত’ আখ্যা দিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে।
পুরো ঘটনাটি মিথ্যা ও কাল্পনিক হওয়া সত্ত্বেও পোস্টটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয় এবং ৮২ লাখেরও বেশি মানুষ এটি প্রত্যক্ষ করে। মন্তব্যের ঘরে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। প্রিঙ্গলের দাবি, মাত্র ১০ মিনিটে তৈরি করা ওই একক পোস্টটি থেকেই তিনি আয় করেছেন প্রায় ২ হাজার ৮০০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা)।
প্রিঙ্গল জানান, তিনি পাঁচটি আলাদা ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করেন। অস্তিত্বহীন চরিত্র ও ঘটনা দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার মাধ্যমে বিশাল অংকের এই অর্থ উপার্জিত হচ্ছে। যদিও তিনি দাবি করেন, কাউকে ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে নয় বরং ফেসবুকের অ্যালগরিদম ও মনিটাইজেশন সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে তিনি এ কাজ করছেন।
এদিকে এআই-নির্ভর মনগড়া, বিভ্রান্তিকর ও নিম্নমানের কনটেন্টের আগ্রাসন রুখতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মগুলো। ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) তাদের পূর্বের রেভিনিউ শেয়ারিং নীতিতে পরিবর্তন এনে কেবল মৌলিক ও তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য নতুন ‘অরিজিনাল কনটেন্ট রিওয়ার্ডস প্রোগ্রাম’ চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। মেটাও ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট দমনে তাদের নীতি জোরদার করছে।
kalprakash.com/IM