আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে একজন ‘রাজনৈতিক জোকার’ বা ‘পলিটিক্যাল ক্লাউন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন বিচারকের প্যানেলে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
পরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগ নিজেদের প্রথম শ্রেণির নাগরিক আর দেশের বাকি মানুষকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক মনে করত। দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য কখনোই একজন পরিপক্ব রাজনীতিকের মতো ছিল না। সমাজমাধ্যমে তিনি মূলত একজন ‘টিকটকার’ হিসেবেই ট্রোলের শিকার হতেন। শেখ হাসিনা এমন একজন রাজনৈতিক জোকারকে সাধারণ সম্পাদক বানিয়ে নিজের দলসহ পুরো দেশকে বিপর্যস্ত করেছেন।”
তিনি আরও যোগ করেন, “ওবায়দুল কাদেরের দায়িত্বজ্ঞানহীন ও উসকানিমূলক বক্তব্যের ফলেই জুলাই গণহত্যার মতো নৃশংসতায় সারা দেশে ১৪ শতাধিক মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।”
উক্ত মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অভিযুক্ত বাকি ছয় পলাতক আসামি হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, এই আসামিরা সবাই চরম দুর্নীতিবাজ ও দুষ্কৃতকারী, যাদের সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি বা উর্ধ্বতন নেতৃত্বের সরাসরি দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
kalprakash.com/IM