পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার মৈশানী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় ভয়াবহ ফল বিপর্যয় ঘটেছে। বিদ্যালয়টি থেকে এ বছর ১১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র ১ জন। তবে অবাক করার বিষয় হলো, বিপুল এই বিপর্যয়ের মধ্যেও পাস করা একমাত্র শিক্ষার্থীর নাম পর্যন্ত বলতে পারেননি প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।
সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসির ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান ও শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সমুদয়কাঠি ইউনিয়নে অবস্থিত এই বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক ও কর্মচারী মিলিয়ে মোট ১৩ জন কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে শিক্ষকের সংখ্যাই ১১ জন। তাঁদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রতি মাসে সরকারের ৩ লাখ টাকারও বেশি ব্যয় হলেও শিক্ষার মানের কোনো উন্নতি হচ্ছে না। নামমাত্র অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী কাগজে-কলমে থাকলেও শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত উপস্থিতি থাকে মাত্র ৫ থেকে ৬ জন।
গত বছরের ইতিহাসও একই। ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ৮ জন অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন মাত্র ১ জন। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে হেলে-দুলে চলায় শিক্ষা কার্যক্রমের এই বেহাল দশা বলে দাবি স্থানীয়দের।
শিক্ষার্থী ১ জন পাস করলেও তাঁর নাম ও প্রাপ্ত ফল তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পর্ষিয়া রানী হালদার। এ নিয়ে সাংবাদিকরা প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি উদাসীনতা প্রকাশ করে বলেন, “এতে দুঃখের কী আছে? আমরা চেষ্টা করেও শিক্ষার্থীদের স্কুলে আনতে পারছি না। তারা ঠিকমতো না পড়লে আমাদের কী করার আছে?”
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যে হতাশ স্থানীয় সুশীল সমাজ ও অভিভাবকরা। ১১ জন শিক্ষক থাকার পরও এমন সার্বিক ব্যর্থতার সঠিক কারণ অনুসন্ধান, শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে দ্রুত ঊর্ধ্বতন শিক্ষা কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।
kalprakash.com/IM