রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬ | ২৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ২৪ সফর, ১৪৪৮ | সন্ধ্যা ৭:৩৪:১৪

কৃষকের সার যাচ্ছে অন্য উপজেলায়, চড়া দামে বিক্রি, সাপাহারে কৃষি অফিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ২:৩২
শেয়ার: mail
কৃষকের সার যাচ্ছে অন্য উপজেলায়, চড়া দামে বিক্রি, সাপাহারে কৃষি অফিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

সরকারি নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে নওগাঁর সাপাহার উপজেলা থেকে অন্তত ১০০ বস্তা ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সার অবৈধভাবে পাশের পোরশা উপজেলা ও সীমান্তবর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে পাচার করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রান্তিক কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সার কালোবাজারি ও এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলাসহ ভিন্ন জেলায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় কৃষি বিভাগের দায়িত্বশীলদের নীরব ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও একাধিক ভুক্তভোগী কৃষকের অভিযোগ, প্রতিদিন সাপাহার উপজেলার জিরো পয়েন্টসহ বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে শয়ে শয়ে ডিএপি সারের বস্তা ভ্যান ও পাওয়ার ট্রলিতে করে পোরশা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে করে সাপাহারের সাধারণ কৃষকেরা তাঁদের কাঙ্ক্ষিত সার পাওয়া থেকে মারাত্মকভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সরজমিনে গিয়ে অভিযোগের প্রত্যক্ষ সত্যতা পাওয়া গেছে। সেখানে দেখা যায়, সাপাহার জিরো পয়েন্ট থেকে একটি ট্রলিতে সুকৌশলে রঙিন পলিথিনে ঢেকে বিএডিসির (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন) ১০০ বস্তা ডিএপি সার নিয়ে পোরশার দিকে যাওয়া হচ্ছিল।

সার বহনকারী ট্রলিচালক সিদ্দিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, “সাপাহার জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে এসব সার ট্রলিতে লোড করা হয়েছে। সারগুলো পোরশা উপজেলার নাছির নামের এক ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা রয়েছে। কার কাছ থেকে কীভাবে সার এসেছে তা আমার জানা নেই; আমাকে শুধু পৌঁছে দেওয়ার চুক্তি করা হয়েছে।”

এদিকে আরও ২০ বস্তা ডিএপি সার নিয়ে ভ্যানযোগে গোমস্তাপুরের দিকে যাওয়ার পথে ইসমাইল নামের আরেক ভ্যানচালক জানান, “সাপাহার ও পোরশার বিভিন্ন দোকান ও পয়েন্ট থেকে এসব সার সংগ্রহ করে গোমস্তাপুরে নিয়ে যাচ্ছি। সেখানে আমবাগান মালিকদের কাছে বিক্রি করা হবে।” তবে সার ক্রয়ের ক্ষেত্রে তাঁর কাছে কোনো বৈধ রশিদ বা ট্রেড মেমো ছিল না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সামান্য কয়েক বস্তা ডিএপি সার কিনতে ডিলারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরলে তাঁরা সরাসরি বলেন সার নাকি স্টকে নেই। অথচ সরকারি নির্ধারিত ১,০৫০ টাকার সার অবৈধ হাতবদলে ১,৩০০ থেকে ১,৫০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। নির্ধারিত বা বাড়তি টাকা দিয়েও সার পাওয়া যায় না। অথচ অবাধে শয়ে শয়ে বস্তা সার পাচার হয়ে ভিন্ন উপজেলায় চলে যাচ্ছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্তৃপক্ষের পরোক্ষ সহযোগিতা ও সদিচ্ছার অভাব ছাড়া এভাবে ট্রাক-ট্রলিতে করে সরকারি সার পাচার হওয়া অসম্ভব।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাপাহার উপজেলা কৃষি অফিসার মোছাঃ শাপলা খাতুন বলেন, “কোন ডিলার এভাবে সার পাচার বা নিয়মবহির্ভূত বিক্রি করছেন, আমি সেটির খোঁজখবর নিচ্ছি। শারীরিক অসুস্থতার কারণে আমি বিষয়টি দেখার জন্য অতিরিক্ত কৃষি অফিসারকে দায়িত্ব দিয়ে খোঁজ নিতে বলেছি।”

প্রান্তিক কৃষকদের স্বার্থে সরকারের কাছে তাঁদের আকুল দাবি—উপজেলায় কৃত্রিম সার সংকট তৈরি করে অন্য উপজেলায় সার পাচারের মূল কারিগর ও অসাধু ডিলার সিন্ডিকেটের সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তপূর্বক কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
কৃষকের সার যাচ্ছে অন্য উপজেলায়, চড়া দামে বিক্রি, সাপাহারে কৃষি অফিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
Logo
রোববার, ৯ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

কৃষকের সার যাচ্ছে অন্য উপজেলায়, চড়া দামে বিক্রি, সাপাহারে কৃষি অফিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

বিস্তারিত কমেন্টে