শতাব্দী প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রুহিয়া রেলস্টেশন দিয়ে প্রতিদিন অন্তত তিনটি উপজেলার শত শত মানুষ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশনে কোনো যাত্রী ছাউনি না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা। পর্যাপ্ত আসন সুবিধা না থাকা এবং তীব্র রোদ-বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে ট্রেন ধরার বাধ্যবাধকতায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীরা।
সরেজমিনে রুহিয়া রেলস্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, দীর্ঘদিনের পুরোনো এই স্টেশনটিতে যাত্রীদের অপেক্ষা করার মতো কোনো নির্দিষ্ট ছাউনি বা বিশ্রামাগার নেই। ১ম, ২য় বা ৩য় শ্রেণির যাত্রীদের পৃথক কোনো বসার ব্যবস্থা তো নেই-ই, প্ল্যাটফর্মে বসার যেসব পুরোনো আসন ছিল, সেগুলোও দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ভেঙে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।
এছাড়া ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দূরপাল্লার ট্রেনগুলো ক্রসিংয়ের জন্য ২ নম্বর লাইনে দাঁড়ালে দ্বিতীয় প্ল্যাটফর্ম না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। বিশেষ করে নারী, শিশু ও স্থানান্তরিত বয়স্ক যাত্রীদের নিচু লাইন থেকে উঁচুতে উঠে ট্রেনে ওঠা-নামা করতে প্রাণান্তকর কসরত পোহাতে হয়।
স্থানীয় নিয়মিত যাত্রী খায়রুল বাশার, আবুল হোসেন ও শফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সামান্য বৃষ্টি এলেই স্টেশন প্রাঙ্গণে মাথা গোঁজার জায়গা থাকে না। বৃষ্টিতে ভিজে ট্রেনে উঠতে গিয়ে অনেকেরই সঙ্গে থাকা মূল্যবান বই-পত্র, নথিপত্র ও পরনের পোশাক নষ্ট হয়ে যায়।
পাশাপাশি স্টেশনটিতে টিকিট বরাদ্দের অবস্থাও অত্যন্ত করুণ। বহুল পরিচিত ‘একতা এক্সপ্রেস’ ও ‘দ্রুতযান এক্সপ্রেস’ ট্রেনের জন্য মাত্র ২৫টি আসন বরাদ্দ রয়েছে, যা রুহিয়া অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাহিদার তুলনায় একেবারেই নগণ্য। সেখানে কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) টিকিটের ব্যবস্থাও নেই। স্থানবাসীদের জোরালো দাবি—স্টেশনটিতে অবিলম্বে কমপক্ষে ২০০টি আসন, এসি সিটের কোটা বরাদ্দ এবং ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’ ট্রেনের বিরতি (স্টপিজ) নিশ্চিত করা হোক।
এ বিষয়ে রুহিয়া রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার (গ্রেড-৪) মোঃ নাজমুল হোসেন যাত্রীদের সীমাহীন কষ্ট ও স্টেশনের নানা অবকাঠামোগত সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, “যাত্রীসেবার মান স্বাভাবিক করতে এখানে জরুরি ভিত্তিতে যাত্রী ছাউনি নির্মাণ ও প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।”
সার্বিক বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল (দিনাজপুর) বিভাগের বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ রাকিব হাসান আশ্বাস দিয়ে জানান, “ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ ও একটি আধুনিক যাত্রী ছাউনি নির্মাণের নীতিগত অনুমোদন সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এর নির্মাণ কাজ মাঠে শুরু হবে। এসব অবকাঠামো তৈরি সম্পন্ন হলে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ স্থায়ীভাবে নিরসন হবে।”
kalprakash.com/IM