মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬ | ১৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ১৯ সফর, ১৪৪৮ | সকাল ৭:১৮:২২

জবির মাস্টার্স (থিসিস), এমফিল ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের প্রায় কোটি টাকার গবেষণা অনুদানের চেক হস্তান্তর

কাল প্রকাশ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১:১১
শেয়ার: mail
জবির মাস্টার্স (থিসিস), এমফিল ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের প্রায় কোটি টাকার গবেষণা অনুদানের চেক হস্তান্তর

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) মাস্টার্স (থিসিস), এমফিল ও পিএইচডি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের গবেষণা অনুদানের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠান সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, সবাই মিলে আমরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে চাই। দীর্ঘ ২১ বছরের পথচলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় যে পর্যায়ে বিকশিত হয়েছে, সেখানে শিক্ষকদের অবদান অপরিসীম। গবেষকদের গবেষণা অনুদানের চেক হস্তান্তর করতে পেরে আমরা আনন্দিত। পূর্ববর্তী শিক্ষাবর্ষের তুলনায় বর্তমানে গবেষণায় প্রায় দ্বিগুণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে কাঙ্ক্ষিত উচ্চতায় পৌঁছাতে হলে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।

গবেষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এগিয়ে নিতে হলে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। আমাদের শিক্ষা ও গবেষণার কাজে আরও বেশি মনোনিবেশ করতে হবে। পাশাপাশি আজ যারা গবেষণা অনুদানের চেক গ্রহণ করছেন, তাদের সবার জীবনের সফলতা কামনা করছি।

উপাচার্য আরও বলেন, ইতোমধ্যে আমরা ১০৪ জন শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান, শিক্ষকদের ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড ও রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড প্রদান, শিক্ষার্থীদের মেধা ও আবাসন বৃত্তি প্রদান, নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন ক্লাস শুরু এবং আইডি কার্ড বিতরণ করতে সক্ষম হয়েছি। এছাড়া শিক্ষকদের জন্য Training on Assessment Strategies in Implementing Outcome-Based Education (OBE) কার্যক্রম চলমান রয়েছে। Apply for Academic Documents (Certificate & Transcript) মডিউলেরও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শিগগিরই কুইক রেসপন্স অ্যাপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। তাই আমাদের গণসচেতনতা তৈরি করতে হবে। ৫ আগস্টের পর যে পরিবর্তন এসেছে, সেটি সাম্য, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ার পরিবর্তন। এখান থেকে গঠনমূলক কাজে আমাদের সম্পৃক্ত হতে হবে। তা না হলে ২৪-এর যে আকাঙ্ক্ষা, তা বাস্তবায়ন হবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, আপনাদের হাতে এই অনুদান তুলে দিতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত। গবেষণার মান যেন আরও উন্নত ও গুণগত হয়, সেদিকে আমাদের মনোযোগী হতে হবে।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক, প্রক্টরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. শেখ মো. গিয়াস উদ্দিন। এছাড়া বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, গবেষণা পরিচালক, আইকিউএসি পরিচালক, পিআরআইপি পরিচালক এবং অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, মাস্টার্স (থিসিস) ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের ৪৯৮ জন শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি ৯ হাজার ৯৮০ টাকা হিসেবে মোট ৪৯ লাখ ৭০ হাজার ৪০ টাকা, এমফিল ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ৪৯ জন শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি ২৪ হাজার টাকা হিসেবে মোট ১১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা এবং পিএইচডি ২০২৫-২০২৬, ২০২৩-২০২৪ (দ্বিতীয়বার) ও ২০২৪-২০২৫ (দ্বিতীয়বার) শিক্ষাবর্ষের মোট ৯৫ জন শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি ৩৬ হাজার টাকা হিসেবে মোট ৩৪ লাখ ২০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৬৪২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মোট ৯৫ লাখ ৬৬ হাজার ৪০ টাকা গবেষণা অনুদান প্রদান করা হয়েছে।

গবেষণা অনুদানের অর্থ ইএফটিএন (EFTN) বা ইলেকট্রনিক ফান্ডস ট্রান্সফার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রদান করা হবে।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward