পঞ্চগড় জেলা শহরের ‘আদর্শ ক্লিনিক’ নামের একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে প্রসব করানোর সময় এক নবজাতকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। প্রসূতির স্বজনদের দাবি, সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য ভর্তি করা হলেও চিকিৎসকের উপস্থিতি ছাড়াই দুই নার্সের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করায় চিকিৎসাগত অবহেলায় নবজাতকটির মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) রাতে জেলা শহরের আদর্শ ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে প্রসূতি মা বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন বলে জানা গেছে। মৃত নবজাতকের মা মিতু (১৯) পঞ্চগড় পৌরসভার তুলারডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা এবং মনিরুল ইসলামের স্ত্রী।
স্বজন ও ক্লিনিক সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মিতুকে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য আদর্শ ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, ভর্তির পর দীর্ঘ সময় পার হলেও কোনো চিকিৎসক উপস্থিত হননি। পরে চিকিৎসক ডা. আফিয়া জান্নাত আফির পরামর্শে ক্লিনিকে কর্মরত দুই নার্স—সারজিনা ও আখি—স্বাভাবিক প্রসব করানোর চেষ্টা করেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ নবজাতকের মৃত্যুর খবর জানালে স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
মৃত নবজাতকের নানি রূপালি বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়েকে সিজারের জন্য ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু বিকেল থেকে সময়ক্ষেপণ করে রাতে আমাদের না জানিয়ে দুই নার্স স্বাভাবিক প্রসব করানোর চেষ্টা করেন। তাদের অবহেলার কারণেই আমার নাতির মৃত্যু হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা ক্লিনিকে গিয়ে প্রতিবাদ জানান। স্বজনদের অভিযোগ, নবজাতকের মৃত্যুর পরও দীর্ঘ সময় মরদেহ ক্লিনিকে আটকে রাখা হয়েছিল। পরে গভীর রাতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অভিযুক্ত নার্স আখি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “ডা. আফিয়া জান্নাতের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীকে স্যালাইন ও ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল। প্রসবের সময় শিশুটি দীর্ঘ সময় জরায়ুমুখে আটকে ছিল। তখনই তার মৃত্যু হয়। তবে প্রসবের সময় কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না।”
আদর্শ ক্লিনিকের ম্যানেজার মোজাহারুল ইসলাম মাসুদও চিকিৎসকের অনুপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ডা. আফিয়া জান্নাত ফোনে স্যালাইন ও ইনজেকশন দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, ক্লিনিকটির লাইসেন্স বর্তমানে হালনাগাদ নেই এবং সেখানে সার্বক্ষণিক কোনো চিকিৎসকও কর্মরত নেই।
এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান বলেন, “নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। কোনো মৃত্যুই কাম্য নয়।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার দোষীদের চিহ্নিত করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
মাহামুদুল ইসলাম জয়, পঞ্চগড় প্রতিনিধি 
















