মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের যে হুমকি তিনি দিয়েছেন—তা যুদ্ধাপরাধ হতে পারে কি না, সে বিষয়ে তিনি একেবারেই চিন্তিত নন।
সোমবার (৬ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এটা নিয়ে চিন্তিত নই। জানেন, যুদ্ধাপরাধ কী? ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র রাখা।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ নেয়। এতে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস রফতানি ঝুঁকিতে পড়েছে এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ইরানকে একের পর এক ডেডলাইন দিয়েছেন।
সবশেষ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত ৮টা পর্যন্ত তেহরানকে চুক্তি না মানলে কঠোর সামরিক পরিণতির হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা রয়েছে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করার। তিনি বলেন, ‘মানে পুরোপুরি ধ্বংস… রাত ১২টার মধ্যে শেষ করা যাবে… আমরা চাইলে চার ঘণ্টার মধ্যেই করতে পারি।’ হামলার লক্ষ্য হতে পারে সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র, যা তিনি ‘সেতু দিবস’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
কিছু সামরিক আইনের বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এত বড় পরিসরের হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র সতর্ক করে বলেছেন, বেসামরিক স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক আইনে নিষিদ্ধ।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক বিমানবাহিনী জাজ অ্যাডভোকেট এবং আইন অধ্যাপক র্যাচেল ভ্যানল্যান্ডিংহ্যাম বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলে হাসপাতাল ও পানি পরিশোধন কেন্দ্রগুলো অচল হয়ে যাবে, যার ফলে সাধারণ মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে। তিনি যোগ করেন, ‘ট্রাম্প আসলে বলছেন—আমরা বেসামরিক মানুষের ক্ষতির ব্যাপারে চিন্তা করছি না, শুধু ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ধ্বংস করব।’
kalprakash.com/SS
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 






















