বাংলাদেশ ০৬:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo রংপুরে তেলের চরম সংকট, বোতল-জারে চলে যাচ্ছে পাম্পের তেল Logo এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ: একাদশে দুই পরিবর্তন Logo নারায়ণগঞ্জে স্কুলছাত্র হত্যায় রিপনের মৃত্যুদণ্ড, অপর আসামি রাব্বি খালাস Logo ডিজেল সংকটে বিপাকে কৃষক, পাম্পে তেল না পেয়ে মন্ত্রীকে সরাসরি ফোন Logo বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের এপিএস হিসেবে নিয়োগ পেলেন নজরুল ইসলাম Logo ঢাকাসহ ১৩ জেলায় রাতেই ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, বজ্রবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির সতর্কতা Logo স্কুল সময়ের যানজট কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ Logo ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিমান হামলার দাবি পিএমএফের Logo বাংলাদেশ ব্যাংকে ১০৮ সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ Logo গুরুতর শ্রবণ সমস্যায় ভুগছেন আল্কা ইয়াগনিক, গান থেকে সাময়িক বিরতি

নরসিংদীর চরাঞ্চলে বাড়ছে বাদাম চাষ, হাসি ফুটছে কৃষকের মুখে

স্বল্প খরচ, কম পরিশ্রমে অধিক ফলন এবং বাজারে ভালো দামের কারণে নরসিংদীর চরাঞ্চলে দিন দিন বাড়ছে বাদাম চাষ। এতে করে কৃষকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে নতুন আগ্রহ ও সম্ভাবনা। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বাদামের গুণগত মান ভালো হওয়ায় দেশজুড়ে এর চাহিদাও বাড়ছে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, বাদাম চাষের পরিধি আরও বাড়াতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প ও বিনা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় বীজ সহায়তা, প্রণোদনা ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মেঘনা নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল চাঁনপুর, মাঝেরচর, মৌহিনিপুর, সদাগর কান্দি, সদর উপজেলার চরদিঘলদী ও আলোকবালী এবং বেলাবো উপজেলার চর বেলাবো এলাকায় সবচেয়ে বেশি বাদাম চাষ হচ্ছে। আগের তুলনায় বাদামের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতি বছরই বাড়ছে আবাদ।

কৃষকদের ভাষ্য, বাদাম চাষে সার বা বিষের প্রয়োজন হয় না, ফলে খরচ কম এবং লাভ বেশি। এক বিঘা জমিতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা ব্যয় করে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকার ফসল বিক্রি করা সম্ভব। এছাড়া বাদাম চাষ শেষে একই জমিতে অন্য ফসল চাষও করা যায়।

রায়পুরার মাঝেরচর গ্রামের কৃষক করিম মিয়া বলেন, এ বছর প্রায় ১০ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি। প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আল্লাহ ভরসা, ফসল ভালো হলে ৫ লাখ টাকার মতো বিক্রি হবে।

বাদাম সংগ্রহ, শুকানো ও বাছাইসহ বিভিন্ন ধাপে স্থানীয় নারী-পুরুষদের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে।

নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) সালাউদ্দিন টিপু বলেন, যেসব জমিতে অন্য ফসল হয় না, সেসব পতিত জমিতে বাদাম চাষ করা হচ্ছে। এতে উৎপাদন বাড়ছে, কৃষক লাভবান হচ্ছেন। আমরা নিয়মিতভাবে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, জেলায় চলতি মৌসুমে ২৯০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ইতোমধ্যে আবাদ হয়েছে প্রায় ৩১০ হেক্টর জমিতে।

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুরে তেলের চরম সংকট, বোতল-জারে চলে যাচ্ছে পাম্পের তেল

নরসিংদীর চরাঞ্চলে বাড়ছে বাদাম চাষ, হাসি ফুটছে কৃষকের মুখে

প্রকাশিত: ১২:০৫:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

স্বল্প খরচ, কম পরিশ্রমে অধিক ফলন এবং বাজারে ভালো দামের কারণে নরসিংদীর চরাঞ্চলে দিন দিন বাড়ছে বাদাম চাষ। এতে করে কৃষকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে নতুন আগ্রহ ও সম্ভাবনা। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বাদামের গুণগত মান ভালো হওয়ায় দেশজুড়ে এর চাহিদাও বাড়ছে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, বাদাম চাষের পরিধি আরও বাড়াতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প ও বিনা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় বীজ সহায়তা, প্রণোদনা ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মেঘনা নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল চাঁনপুর, মাঝেরচর, মৌহিনিপুর, সদাগর কান্দি, সদর উপজেলার চরদিঘলদী ও আলোকবালী এবং বেলাবো উপজেলার চর বেলাবো এলাকায় সবচেয়ে বেশি বাদাম চাষ হচ্ছে। আগের তুলনায় বাদামের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতি বছরই বাড়ছে আবাদ।

কৃষকদের ভাষ্য, বাদাম চাষে সার বা বিষের প্রয়োজন হয় না, ফলে খরচ কম এবং লাভ বেশি। এক বিঘা জমিতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা ব্যয় করে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকার ফসল বিক্রি করা সম্ভব। এছাড়া বাদাম চাষ শেষে একই জমিতে অন্য ফসল চাষও করা যায়।

রায়পুরার মাঝেরচর গ্রামের কৃষক করিম মিয়া বলেন, এ বছর প্রায় ১০ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি। প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আল্লাহ ভরসা, ফসল ভালো হলে ৫ লাখ টাকার মতো বিক্রি হবে।

বাদাম সংগ্রহ, শুকানো ও বাছাইসহ বিভিন্ন ধাপে স্থানীয় নারী-পুরুষদের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে।

নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) সালাউদ্দিন টিপু বলেন, যেসব জমিতে অন্য ফসল হয় না, সেসব পতিত জমিতে বাদাম চাষ করা হচ্ছে। এতে উৎপাদন বাড়ছে, কৃষক লাভবান হচ্ছেন। আমরা নিয়মিতভাবে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, জেলায় চলতি মৌসুমে ২৯০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ইতোমধ্যে আবাদ হয়েছে প্রায় ৩১০ হেক্টর জমিতে।