মিঠাপুকুরে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে বাইকারসহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষিতে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারেও।
ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে সৃষ্ট সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি বিশ্ব জ্বালানি খাতে এক ধরনের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে, যা এশিয়ার দেশগুলোকেও প্রভাবিত করছে। এরই ধারাবাহিকতায় জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
আজ সোমবার দুপুর ১২টা থেকে মিঠাপুকুরের হাসনা ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ শুরু হলে ক্রেতাদের ভিড় ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালক (বাইকার) এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ তেল সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করেন। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন তারা। প্রতিটি বাইকে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে জানান বাইকাররা।
স্থানীয় বাইকার ও উদ্যোক্তা মোজাহারুল ইসলাম বলেন, “আজ চারদিন পর বাইক বের করেছি। তেল সংকটে বের করতে পারিনি। বিকেল তিনটার দিকে পাম্পে এসেছি, এখন প্রায় ছয়টা বাজে, এখনো লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কবে তেল পাব, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।”
পেশায় পশু চিকিৎসক বিপ্লব মিয়া বলেন, জ্বালানি সংকটে তিনি জরুরি রোগী দেখতে যেতে পারছেন না। “দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল নিতে পারিনি। তেলের অভাবে দূরপাল্লার ইমারজেন্সি রোগীর কাছে যেতে পারছি না। এর মধ্যে লোডশেডিংও শুরু হয়েছে, ফলে সেবা দিতে পারছি না,” বলেন তিনি।
বাইকে তেল সংগ্রহ করতে আসা অধিকাংশই বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ। এর মধ্যে রয়েছেন ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের কর্মী, মার্কেটিং অফিসার, সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, কৃষি উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
মঞ্জু মিয়া, পেশায় শুঁটকি ব্যবসায়ী, রংপুরের মর্ডান এলাকার বাসিন্দা। তিনি মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন স্থানে শুঁটকি বিক্রি করেন। পথে তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি ভ্যানগাড়িতে করে মোটরসাইকেল টেনে এনে তেল নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়ান।
মিঠাপুকুরের হাসনা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জানান, “গতকাল আমরা প্রায় ৪ হাজার লিটার তেল পেয়েছি। আজ দুপুর থেকে তেল সরবরাহ করছি। মজুদ থাকা পর্যন্ত তেল দেওয়া হবে।”
মিঠাপুকুরের প্রায় ১৭টি তেল পাম্পেই একই অবস্থা বিরাজ করছে। বিশেষ করে হাইওয়ে সংলগ্ন পাম্পগুলোতে বাইকারদের তুলনামূলক বেশি ভিড় দেখা গেছে। শঠিবাড়ি, গড়ের মাথা, জায়গীর, মুসলিম বাজার, শুকুরের হাট ও এরশাদ মোড় এলাকায় তেল নিতে বাইকারদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পাশ্ববর্তী বদরগঞ্জ ও রংপুর সদর এলাকাতেও একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
মো. রাখিবুল হাসান রাখিব, মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি 
























