ইরান–ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের চলমাহুতিদের যুদ্ধে প্রবেশে শঙ্কায় বিশ্ব অর্থনীতি, ঝুঁকিতে তেল ও বাণিজ্যের প্রধান জলপথন সংঘাতে শুরুতে নিরব থাকলেও শেষ পর্যন্ত সরাসরি জড়িয়ে পড়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। তাদের এই অংশগ্রহণ শুধু সামরিক উত্তেজনাই বাড়াচ্ছে না, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও জোরালো করছে।
প্রথম কয়েক সপ্তাহ তারা কোনো হামলা চালায়নি। তবে অতীতে যেমন হামাসকে সমর্থন দিয়ে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে জাহাজে হামলা চালিয়েছিল, তেমনি পরিস্থিতি আবার সেই দিকেই যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পথটি বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট—এখানে অস্থিরতা মানেই সরাসরি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ধাক্কা।
ইরানের পক্ষ থেকেও হুঁশিয়ারি এসেছে—তাদের তেল স্থাপনায় হামলা হলে লোহিত সাগর ও আশপাশের কৌশলগত জলপথ অস্থিতিশীল করে তোলা হতে পারে। একই সময়ে যদি হরমুজ প্রণালিও বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যের দুটি প্রধান রুট কার্যত অচল হয়ে পড়বে।
ইতোমধ্যে হুতিরা ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে সরাসরি যুদ্ধে যুক্ত হয়েছে। তারা জানিয়েছে, লোহিত সাগরকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য ব্যবহার করতে দেবে না। এতে করে আবারও জাহাজে হামলার ঝুঁকি বাড়ছে, যা সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও তেলবাজার—দুটোকেই অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট শুধু জ্বালানির দাম বাড়াবে না; বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকেও নড়বড়ে করে দেবে। কারণ, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ এখন বিকল্প হিসেবে বাব আল-মান্দাব প্রণালি ব্যবহার করছে তেল পরিবহনের জন্য। এই পথটিও বন্ধ বা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।
এ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও কনটেইনার পণ্য পরিবহন হয়। এটি ব্যাহত হলে জাহাজগুলোকে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে যেতে হবে—যা সময় ও খরচ দুই-ই বাড়াবে। ফলে পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে, যার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিতে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবহন ব্যয় বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়ে। যদিও এর প্রভাব তাৎক্ষণিক নয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। কোভিড-১৯ সময়েও এমনটা দেখা গিয়েছিল।
অন্যদিকে, ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে। কারণ, তারা আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, যার বড় অংশই লোহিত সাগর হয়ে আসে। এই রুটে হামলা হলে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটবে।
সব মিলিয়ে, হুতিদের নতুন করে সক্রিয় হয়ে ওঠা শুধু আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও জটিল করছে না—বরং বিশ্ববাণিজ্য, জ্বালানি বাজার এবং মূল্যস্ফীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 


















