বাংলাদেশ ০৮:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo হুতিদের যুদ্ধে প্রবেশে শঙ্কায় বিশ্ব অর্থনীতি, ঝুঁকিতে তেল ও বাণিজ্যের প্রধান জলপথ Logo চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক হচ্ছে: আমিনুল Logo জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে আলোচনার তাগাদা বিরোধী দলের Logo ফ্যাসিস্ট সরকারের দুর্নীতির কারণে গ্রামাঞ্চলের সড়কের খুব বেশি উন্নয়ন হয়নি: সংসদে মির্জা ফখরুল Logo ইরানি দ্বীপ দখলের চেষ্টা করা ‘কালেক্টিভ সুইসাইড’ Logo সিএএফ-কে তোয়াক্কা না করে প্যারিসে ট্রফি হাতে সাদিও মানেদের বিজয় মিছিল Logo তফসিল ঘোষণা হলেও চূড়ান্ত হয়নি পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা; বিজেপি-তৃণমূল লড়াই তুঙ্গে Logo দেড় বছরের মেয়ের বিরল রোগের কথা জানিয়ে ভেঙে পড়েছেন বরুণ ধাওয়ান Logo ফিলিস্তিনের পক্ষে প্রকাশ্য অবস্থান নেয়ায় ভিসা পেলেন না ওয়ারফেজের কমল Logo এ ভালোবাসাই আমার শক্তি: শাকিব খান

জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে আলোচনার তাগাদা বিরোধী দলের

ছবিঃ ডাঃ শফিকুর রহমান, (সংসদ ভবন)

জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ অধিবেশন–সংক্রান্ত আলোচনার জন্য স্পিকারের প্রতি সংসদে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

আজ রোববার জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবকে দেওয়া এক নোটিশে শফিকুর রহমান এ আহ্বান জানান।

এর আগে ১৫ মার্চ সংসদে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করার বিষয়টি উত্থাপন করেন। তখন সংসদের স্পিকার এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক নোটিশ দিতে বলেন। আজ সেই নোটিশ দিয়েছে বিরোধী দল।

নোটিশে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ (আদেশ নং ০১, ২০২৫) এর অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করার কথা বলা হয়েছে।

এই আলোচনা উত্থাপনের কারণ হিসেবে নোটিশে বলা হয়েছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোটের প্রদত্ত রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আইনে বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা হয়নি। বিষয়টি বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ১৫ মার্চ সংসদে উত্থাপন করেন। স্পিকার এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেওয়ার জন্য বলেন। স্পিকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যপ্রণালি বিধির ৬২ বিধি অনুসারে জনগুরুত্বসম্পন্ন এই বিষয়ে সংসদে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপনের নোটিশ দেওয়া হচ্ছে।

এতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে এবং অন্তর্বতীকালীন সরকারের পরামর্শক্রমে, রাষ্ট্রপতি এই (জুলাই সনদ বাস্তবায়ন) আদেশ জারি করেন।

নোটিশে বলা হয়েছে, গত বছরের ২৫ নভেম্বর সরকার গণভোট অধ্যাদেশ প্রণয়ন করে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত কিছু প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের সম্মতি রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য অধ্যাদেশটি জারি করা হয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। একই দিন গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হয়। জনগণ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার–সম্পর্কিত প্রস্তাবের পক্ষে তাঁদের রায় দেন।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের নিরঙ্কুশ বিজয়ের ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ দুটি শপথ (সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্য) পাঠ করতে আইনানুগভাবে বাধ্য বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সংসদ সদস্যগণ সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় জোটের ৭৭ জন সংসদ সদস্য পৃথকভাবে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ পাঠ করেন।

নোটিশে বলা হয়, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ (ত্রিশ) পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে যে পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হবে, অনুরূপ পদ্ধতিতে পরিষদের প্রথম অধিবেশন আহ্বানের বিধান থাকলেও এখনো পর্যন্ত তা করা হয়নি।

জাতির প্রত্যাশাকে পাশ কাটিয়ে অচলাবস্থা সৃষ্টি করা কখনো কাম্য নয় উল্লেখ করে নোটিশে আরও বলা হয়, ‘জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয় হিসেবে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ অধিবেশন সংক্রান্ত আলোচনার জন্য মাননীয় স্পিকারের প্রতি সংসদে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপনের আহ্বান করছি।’

আজ বিকেল সাড়ে ৪টায় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান সংসদে দাঁড়িয়ে নোটিশের বিষয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তখন স্পিকার বলেছেন, বিষয়টি পরে দেখবেন।

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

হুতিদের যুদ্ধে প্রবেশে শঙ্কায় বিশ্ব অর্থনীতি, ঝুঁকিতে তেল ও বাণিজ্যের প্রধান জলপথ

জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে আলোচনার তাগাদা বিরোধী দলের

প্রকাশিত: ০৬:২৩:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ অধিবেশন–সংক্রান্ত আলোচনার জন্য স্পিকারের প্রতি সংসদে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

আজ রোববার জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবকে দেওয়া এক নোটিশে শফিকুর রহমান এ আহ্বান জানান।

এর আগে ১৫ মার্চ সংসদে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করার বিষয়টি উত্থাপন করেন। তখন সংসদের স্পিকার এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক নোটিশ দিতে বলেন। আজ সেই নোটিশ দিয়েছে বিরোধী দল।

নোটিশে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ (আদেশ নং ০১, ২০২৫) এর অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করার কথা বলা হয়েছে।

এই আলোচনা উত্থাপনের কারণ হিসেবে নোটিশে বলা হয়েছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোটের প্রদত্ত রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আইনে বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা হয়নি। বিষয়টি বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ১৫ মার্চ সংসদে উত্থাপন করেন। স্পিকার এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেওয়ার জন্য বলেন। স্পিকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যপ্রণালি বিধির ৬২ বিধি অনুসারে জনগুরুত্বসম্পন্ন এই বিষয়ে সংসদে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপনের নোটিশ দেওয়া হচ্ছে।

এতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে এবং অন্তর্বতীকালীন সরকারের পরামর্শক্রমে, রাষ্ট্রপতি এই (জুলাই সনদ বাস্তবায়ন) আদেশ জারি করেন।

নোটিশে বলা হয়েছে, গত বছরের ২৫ নভেম্বর সরকার গণভোট অধ্যাদেশ প্রণয়ন করে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত কিছু প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের সম্মতি রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য অধ্যাদেশটি জারি করা হয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। একই দিন গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হয়। জনগণ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার–সম্পর্কিত প্রস্তাবের পক্ষে তাঁদের রায় দেন।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের নিরঙ্কুশ বিজয়ের ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ দুটি শপথ (সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্য) পাঠ করতে আইনানুগভাবে বাধ্য বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সংসদ সদস্যগণ সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় জোটের ৭৭ জন সংসদ সদস্য পৃথকভাবে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ পাঠ করেন।

নোটিশে বলা হয়, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ (ত্রিশ) পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে যে পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হবে, অনুরূপ পদ্ধতিতে পরিষদের প্রথম অধিবেশন আহ্বানের বিধান থাকলেও এখনো পর্যন্ত তা করা হয়নি।

জাতির প্রত্যাশাকে পাশ কাটিয়ে অচলাবস্থা সৃষ্টি করা কখনো কাম্য নয় উল্লেখ করে নোটিশে আরও বলা হয়, ‘জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয় হিসেবে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ অধিবেশন সংক্রান্ত আলোচনার জন্য মাননীয় স্পিকারের প্রতি সংসদে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপনের আহ্বান করছি।’

আজ বিকেল সাড়ে ৪টায় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান সংসদে দাঁড়িয়ে নোটিশের বিষয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তখন স্পিকার বলেছেন, বিষয়টি পরে দেখবেন।