বাংলাদেশ ০১:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo ইজিবাইকের ধাক্কায় প্রাণ গেল স্কুলছাত্রীর, শোকে স্তব্ধ এলাকা Logo ৭ম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে এমপি মনিরুল হক চৌধুরী Logo কুমিল্লায় ডিবি পুলিশের অভিযানে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক ১ Logo এমপি সেলিমের বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ: ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে প্রতিবাদ Logo গ্রামে ধর্মীয় শিক্ষার নতুন ঠিকানা, মোড়েলগঞ্জে গুরুচাঁদ বিদ্যাপীঠ Logo লঞ্চ ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র সঙ্গে লঞ্চ মালিক সমিতির বৈঠক কাল Logo বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের ৫৫তম শাহাদাৎবার্ষিকীতে পিসিসিপির শ্রদ্ধা ও আদর্শ ধারণের আহ্বান Logo বিএনপির এমপি হচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেত্রী সুবর্ণা Logo ১৮টি দেশে কর্মী পাঠানোর চুক্তি হয়েছে: নুরুল হক Logo চীনা স্যাটেলাইটে ইরানের লক্ষ্যভেদ ক্ষমতা বেড়েছে বলে দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা

ইজিবাইকের ধাক্কায় প্রাণ গেল স্কুলছাত্রীর, শোকে স্তব্ধ এলাকা

বাগেরহাটের মোংলায় সড়ক দুর্ঘটনায় সানজিদা আক্তার শিমু (১১) নামে এক কিশোরী শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একটি বেপরোয়া ইজিবাইকের ধাক্কায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে মোংলা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের সড়কে, নিজ বাড়ির সামনে রাস্তা পারাপারের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিমু স্থানীয় বাসিন্দা শামীম হাওলাদারের মেয়ে এবং সরকারি টি এ ফারুক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতির সময় তার মা তাকে বাজার থেকে ডিম আনতে পাঠান। দোকানে যাওয়ার পথে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি ইজিবাইক তাকে সজোরে আঘাত করে। এতে সে গুরুতর আহত হয়ে সড়কে লুটিয়ে পড়ে।

হাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. আসমা খানম জানান, দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা শিমুকে উদ্ধার করে প্রথমে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, এই দুর্ঘটনা এলাকায় চরম বেদনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কে ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহনের বেপরোয়া গতি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকি তৈরি করছে, বিশেষ করে স্কুলগামী শিশুদের জন্য।

মোংলা থানার ওসি আতিকুর রহমান জানান, নিহতের মরদেহ বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা জোরদার এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা সামনে নিয়ে এসেছে। সচেতন মহল মনে করছেন, সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এমন দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

ইজিবাইকের ধাক্কায় প্রাণ গেল স্কুলছাত্রীর, শোকে স্তব্ধ এলাকা

ইজিবাইকের ধাক্কায় প্রাণ গেল স্কুলছাত্রীর, শোকে স্তব্ধ এলাকা

প্রকাশিত: ০৯:৪৯:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

বাগেরহাটের মোংলায় সড়ক দুর্ঘটনায় সানজিদা আক্তার শিমু (১১) নামে এক কিশোরী শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একটি বেপরোয়া ইজিবাইকের ধাক্কায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে মোংলা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের সড়কে, নিজ বাড়ির সামনে রাস্তা পারাপারের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিমু স্থানীয় বাসিন্দা শামীম হাওলাদারের মেয়ে এবং সরকারি টি এ ফারুক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতির সময় তার মা তাকে বাজার থেকে ডিম আনতে পাঠান। দোকানে যাওয়ার পথে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি ইজিবাইক তাকে সজোরে আঘাত করে। এতে সে গুরুতর আহত হয়ে সড়কে লুটিয়ে পড়ে।

হাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. আসমা খানম জানান, দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা শিমুকে উদ্ধার করে প্রথমে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, এই দুর্ঘটনা এলাকায় চরম বেদনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কে ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহনের বেপরোয়া গতি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকি তৈরি করছে, বিশেষ করে স্কুলগামী শিশুদের জন্য।

মোংলা থানার ওসি আতিকুর রহমান জানান, নিহতের মরদেহ বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা জোরদার এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা সামনে নিয়ে এসেছে। সচেতন মহল মনে করছেন, সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এমন দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।