বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের হাম ও রুবেলা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে জাতীয় টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। এ বছরের কর্মসূচির আওতায় উপজেলার মোট ১৫ হাজার ৬৭ জন শিশুকে বিনামূল্যে এই টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ইউএনও খাদিজা আক্তার বলেন, “হাম একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ, যা শিশুদের নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহ এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে। আর রুবেলা ভাইরাস গর্ভবতী নারীর সংক্রমণের ফলে গর্ভের শিশুর জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়ায়। এই দুটি রোগ থেকে শিশুদের স্থায়ী সুরক্ষা দিতেই সরকার এই সমন্বিত টিকাদান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।”
তিনি আরও জানান, আগামী ১০ মে পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে। এ সময়ে অভিভাবকদের সচেতনতার সঙ্গে নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে আসার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেন তিনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চিতলমারী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা এলাকার শিশুদের এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ মোট ৬৩টি নিয়মিত ইপিআই কেন্দ্রে পর্যায়ক্রমে এই টিকা দেওয়া হবে।
কর্মসূচির জন্য ইতোমধ্যে ১০ হাজার ডোজ হাম-রুবেলা টিকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে পৌঁছেছে। বাকি টিকার চাহিদা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করা হবে। টিকার গুণগত মান ও কোল্ড চেইন বজায় রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শর্মী রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মেডিকেল অফিসার ডা. এম আর ফরাজী, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অচ্যুতানন্দ দাস, চিতলমারী থানার উপ-পরিদর্শক সুজয় কুমার মল্লিক, চিতলমারী প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. একরামুল হক মুন্সি ও সাধারণ সম্পাদক প্রিন্স মণ্ডল অলিফ, এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ফার্মাসিস্ট শিশির মজুমদার।
সভায় ডা. শর্মী রায় বলেন, “আমাদের মাঠকর্মী, স্বাস্থ্য সহকারী ও স্বেচ্ছাসেবকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের টিকা কেন্দ্রে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করছেন। কোনো শিশু যেন টিকা থেকে বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, টিকা গ্রহণের জন্য শিশুর জন্মনিবন্ধন সনদ বা টিকাদান কার্ড সঙ্গে আনার প্রয়োজন নেই। ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী যেকোনো শিশু নিকটস্থ কেন্দ্রে গেলেই টিকা পাবে। যদি কোনো শিশু জ্বর, সর্দি-কাশি বা অন্য কোনো অসুস্থতায় ভোগে, তবে সুস্থ হওয়ার পর তাকে টিকা দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই চিতলমারীর লক্ষ্যমাত্রার ১৫ হাজার ৬৭ জন শিশুকে হাম-রুবেলা টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে। এতে উপজেলায় শিশু মৃত্যুহার কমবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।
প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি 


















