রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ | ২৩ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২৭ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | দুপুর ৩:২৮:২৯
শিরোনাম
● বিচার বিভাগে আর্থিক দুর্নীতির পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক অসততাও বিবেচনায় নিতে হবে: আইনমন্ত্রী ● ‘জেন-জি ক্ষেপে গেলে বিপদ আছে’ মন্তব্যে ট্রাইব্যুনালে উত্তেজনা ● সঠিক তথ্য ছাড়া স্বচ্ছতা নিশ্চিত সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী ● মাটিরাঙ্গায় জাতীয় সমবায় দিবস পালিত ● এসআরবির নতুন মহাপরিচালক হলেন: ফারুক আহমেদ ● সুগন্ধি চালের উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের প্রণোদনা দেবে সরকার ● মাটিরাঙ্গায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত ● ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক হলেন মিজানুর রহমান রাজ ● ● ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা ● বিচার বিভাগে আর্থিক দুর্নীতির পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক অসততাও বিবেচনায় নিতে হবে: আইনমন্ত্রী ● ‘জেন-জি ক্ষেপে গেলে বিপদ আছে’ মন্তব্যে ট্রাইব্যুনালে উত্তেজনা ● সঠিক তথ্য ছাড়া স্বচ্ছতা নিশ্চিত সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী ● মাটিরাঙ্গায় জাতীয় সমবায় দিবস পালিত ● এসআরবির নতুন মহাপরিচালক হলেন: ফারুক আহমেদ ● সুগন্ধি চালের উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের প্রণোদনা দেবে সরকার ● মাটিরাঙ্গায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত ● ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক হলেন মিজানুর রহমান রাজ ● ● ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা

‘জেন-জি ক্ষেপে গেলে বিপদ আছে’ মন্তব্যে ট্রাইব্যুনালে উত্তেজনা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:০২
শেয়ার: mail
‘জেন-জি ক্ষেপে গেলে বিপদ আছে’ মন্তব্যে ট্রাইব্যুনালে উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীর জেরা চলাকালে প্রসিকিউশনের এক সদস্যের ‘জেন-জি ক্ষেপে গেলে বিপদ আছে’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মন্তব্যটিকে হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে আপত্তি জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে উভয়পক্ষের আইনজীবীদের সতর্ক করেন ট্রাইব্যুনাল।

রোববার (৮ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১৩ নম্বর সাক্ষীকে জেরার সময় এ ঘটনা ঘটে।

আসামিপক্ষে সাক্ষীকে জেরা করছিলেন আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায়। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরীসহ অন্য আইনজীবীরা। অন্যদিকে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, গাজী এমএইচ তামিম ও সহিদুল ইসলাম সরদারসহ অন্যরা।

জেরার একপর্যায়ে ২০২৪ সালে হাইকোর্টের দেওয়া একটি রায় নিয়ে সাক্ষীর কাছে জানতে চান আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায়। জবাবে সাক্ষী জানান, ওই রায়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে ২০২৪ সালের ৯ জুলাই অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল স্মারকলিপি দিয়েছিল কি না, তা তার জানা নেই। একই দিনে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে একটি আবেদন করা হলেও সেটিকে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের ‘মনভোলানো কৌশল’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। পরে সংশ্লিষ্ট মামলার শুনানির তারিখ জানতে চাইলে তা মনে নেই বলে জানান সাক্ষী।

এরপর আরও কিছু প্রশ্ন করা হলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়। এ সময় আসামিপক্ষের সারিতে বসা জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী বলেন, প্রসিকিউশনই জেরা করুক, তারা বসে যাবেন। ট্রাইব্যুনাল তাকে ডায়াসে এসে কথা বলতে বললে তিনি অভিযোগ করেন, প্রসিকিউশনের কেউ দাঁড়িয়ে গেলে সাক্ষীর মনোযোগ অন্যদিকে চলে যায়। এতে সাক্ষী সতর্ক হয়ে পড়েন এবং সত্য বের করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এ সময় ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট আইন পড়ে শোনান প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। আইন পড়া শেষে আবার জেরা শুরু হলে সাক্ষীকে প্রসিকিউশনের দিকে মুখ ফিরিয়ে জবাব দিতে বলেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। জবাবে সাক্ষী ‘ঠিক আছে, তাহলে আমি সরে যাই’ বলে নিজের চেয়ার ঘুরিয়ে নেন।

সাক্ষীর এমন আচরণের পর প্রসিকিউশনের এক সদস্য বলে ওঠেন, ‘জেন-জি ক্ষেপে গেলে বিপদ আছে’। এ মন্তব্যে আপত্তি জানিয়ে আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায় বলেন, তাহলে তার জেরা করা ঠিক হবে না, এটি এক ধরনের হুমকি। এ নিয়ে উভয়পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হলে ট্রাইব্যুনাল হস্তক্ষেপ করেন। পরে দুই পক্ষকেই শান্ত থাকার পাশাপাশি সতর্ক করেন বিচারক।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও জেরা শুরু করেন আইনজীবী পলাশ। এ সময় তিনি ৯ জুলাই কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল কি না, তা জানতে চান। জবাবে সাক্ষী বলেন, ওই দিন সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সহিংসতা হয়নি। তবে বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছিল।

চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। এর আগে ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আমলে নেওয়া হয়।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে মূল নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতেন সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক। এর ধারাবাহিকতায় ১৯ জুলাইয়ের এক ফোনালাপে তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আন্দোলনকারীদের ওই রাতেই কারফিউ জারির মাধ্যমে শেষ করে দেওয়ার কথা বলেন। তাদের প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্রে বহু ছাত্র-জনতা প্রাণ হারালেও নির্যাতন বন্ধে তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, তাদের প্রত্যক্ষ জ্ঞাতসারে ও উসকানিতে ২৩ জুলাই রাজধানীর মিরপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় ক্যাডাররা হত্যাযজ্ঞ চালায়। তৃতীয় অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহারে প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ২৮ জুলাই মিরপুর-১০ নম্বরে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়।

চতুর্থ অভিযোগে বলা হয়, কারফিউ জারি করে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও প্ররোচনার মাধ্যমে ৪ আগস্ট মিরপুর-১ এলাকায় আকাশ, সেতু ও আলভীসহ মোট ১২ জনকে হত্যা করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

পঞ্চম অভিযোগে বলা হয়, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ব্যর্থ করতে পরিকল্পনা করেন সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক। তাদের নির্দেশে প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দলের হামলায় মিরপুর-২, ১০ ও ১৩ নম্বর এলাকায় আল-আমিন, আশরাফুল, সাব্বির ও রিতাসহ ১৬ জন নিহত হন।

 

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
রোববার, ৮ নভেম্বর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

‘জেন-জি ক্ষেপে গেলে বিপদ আছে’ মন্তব্যে ট্রাইব্যুনালে উত্তেজনা

বিস্তারিত কমেন্টে