ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামিতে পৌঁছেছেন দেশটির সিনেটর ও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে মিয়ামির ওপা-লক্কা এক্সিকিউটিভ বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হন ফ্লাভিও।
আল জাজিরার প্রতিবেদক জন হলম্যান বিমানবন্দরের বাইরে থেকে জানান, অবতরণের পরপরই ফ্লাভিও ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের একটি এসইউভিতে করে দ্রুত বিমানবন্দর এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিমান থেকে নামেন ফ্লাভিও। এ সময় তাঁর পরনে ছিল গাঢ় রঙের পোলো শার্ট। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ও দুই মেয়ে।
ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট ফ্লাভিও বলসোনারোকে তাঁর সাধারণ ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অভিযোগে চলমান তদন্তের মধ্যে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকে আদালত এ নির্দেশ দেয়। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফ্লাভিও।
সিনেটর হিসেবে ফ্লাভিও এত দিন সম্ভাব্য ফৌজদারি বিচারের ক্ষেত্রে বিশেষ সাংবিধানিক সুরক্ষা পেতেন। তবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি সিনেটের আসন ছেড়ে দেওয়ায় আগামী জানুয়ারিতে সেই সুরক্ষা হারানোর কথা রয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদক হলম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রাজিল থেকে বলসোনারো পরিবারের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার যাত্রাটি ছিল নাটকীয়। পরিবারের সদস্যরা পায়ে হেঁটে প্রতিবেশী আর্জেন্টিনায় প্রবেশ করেন।
আর্জেন্টিনার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানায়, মঙ্গলবার রাতে দেশটিতে প্রবেশের পর এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তাঁরা বেসরকারি বিমান সংস্থা বায়রেস ফ্লাই পরিচালিত একটি বিমানে ইকুয়েডরের গুয়ায়াকিলের উদ্দেশে রওনা হন। পরে সেখান থেকে বিমানটি ফ্লোরিডার মিয়ামির উদ্দেশে যাত্রা করে।
হলম্যান বলেন, আর্জেন্টিনা ও ইকুয়েডর—দুই দেশেই ডানপন্থি সরকার ক্ষমতায় রয়েছে এবং তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র। তাঁর মতে, দেশ দুটি বলসোনারো পরিবারের যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পথে মধ্যবর্তী গন্তব্য হিসেবে কাজ করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও পরিবারটির জন্য ভিসার ব্যবস্থা করেছে।
ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলসোনারো পরিবারের প্রতি সমর্থন জানানোয় তাঁদের দ্রুত ব্রাজিলে ফেরত পাঠানো হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
হলম্যানের মতে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং ট্রাম্পের ইতিবাচক মন্তব্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ফ্লাভিওকে ব্রাজিলে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাড়াহুড়ো নাও করতে পারে।
এর আগে ২০২২ সালে নির্বাচনে হেরে ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও ফ্লাভিওর বাবা জইর বলসোনারোও যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় গিয়েছিলেন। সে সময় তাঁর সমর্থকদের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ ওঠে। পরে তিনি ব্রাজিলে ফিরে আসেন।
সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
kalprakash.com/IM