খালাশাশুড়ির স্বর্ণের গহনা চুরির অপবাদে এক গৃহবধূকে ব্যাপক শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। টানা দুদিন অনাহারে থাকার পর বিষপানে মারা গেছেন দুই সন্তানের জননী ওই নারী। নির্যাতন ও অত্যাচার এবং বিষ পান করিয়ে হত্যার অভিযোগ তুলে বিচারের দাবি জানিয়েছেন নিহত গৃহবধূর স্বজনেরা। নিহত নারী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চর অনুপনগর গ্রামের মিজানুর রহমানের স্ত্রী ইসমোতারা খাতুন (২৬)।
স্থানীয় বাসিন্দা, নিহতের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (২৫ অক্টোবর) বিষ পান করে গুরুতর অসুস্থ হন ইসমোতারা খাতুন। পরে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন সোমবার (২৬ অক্টোবর) কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে মরদেহ স্বামীর বাড়ি অনুপনগরে নিয়ে যাওয়া হলে সেখান থেকে দাদা-দাদির গ্রাম লষ্করহাটিতে নিয়ে যায় পরিবার। পরে সেখানেই দুই সন্তানের জননী ইসমোতারাকে দাফন করা হয়।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহের জের ধরে বিভিন্ন সময়ে ইসমোতারাকে মারধর ও নির্যাতন করতেন মিজানুর রহমান। মারধরের সময় দরজা বন্ধ রাখা হতো, যাতে কেউ বাঁচাতে না পারে। সাম্প্রতিক সময়ে একটি দাওয়াতে গিয়ে এক আত্মীয়ের গহনা চুরির অপবাদ দেওয়া হয় তাঁকে। এ অপবাদে মারধর করে দুদিন কোনো খাবার দেওয়া হয়নি বলেও বিষপানের আগে নদীতে গোসল করতে গিয়ে স্থানীয় নারীদের জানিয়েছিলেন ইসমোতারা।
ইসমোতারা খাতুনের পরিবারের সদস্যরা জানান, তাঁরা দুজন প্রেম করে স্বেচ্ছায় বিয়ে করেছিলেন। এ কারণে বিয়ের পর থেকেই নির্যাতন করা হলেও তা সহ্য করে সংসার করছিলেন ইসমোতারা। ছোট বয়সে মানসিক ভারসাম্যহীন বাবা চলে যাওয়ায় মা অন্যত্র বিয়ে করেন। একা হয়ে পড়লে দাদা-দাদির কাছে বড় হয়েছিলেন ইসমোতারা। স্বজনদের অভিযোগ, গহনা চুরির অপবাদ ও নির্যাতন সহ্য করতে না পেরেই বিষ পান করেছিলেন ইসমোতারা। বিষ পান করার পর হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও তাঁর পরিবারকে জানানো হয়নি বলেও অভিযোগ তাঁদের।
গহনা চুরির অপবাদের কারণেই বিষপানের কথা স্বীকার করেছেন নিহত ইসমোতারার স্বামী মিজানুর রহমান। তিনি জানান, গহনা চুরির বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। বিষপানের পর হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালে তিনি তা জানতে পেরেছেন। আগে জানলে আগেই এর সুরাহা করে দিতেন এবং আজকের এই পরিস্থিতিও সৃষ্টি হতো না। স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন আকন্দ বলেন, ওই নারী বিষ পান করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই মারা গেছেন। পরিবারকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বলা হয়েছে। এ নিয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে বলেও জানান ওসি।
kalprakash.com/IM