কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভ থেকে বেরিয়ে আসা গ্যাসে লাগা আগুন ২০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও নেভানো যায়নি। পরিস্থিতি বিবেচনায় ঘটনাস্থলের চারপাশে ২০০ থেকে ২৫০ মিটার এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলে সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত আড়াইটার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আগুন জ্বলছিল। আগুন নিয়ন্ত্রণে দিনভর ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট কাজ করলেও পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বাপেক্সের ব্যবস্থাপক ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এস এম নাফিফুন আরহাম বলেন, ভূগর্ভের যে স্তর থেকে গ্যাস বের হচ্ছে, সেই স্তরের গ্যাস শেষ হয়ে গেলে আগুন স্বাভাবিকভাবেই নিভে যাবে। এর আগে জোর করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হলে ভূগর্ভে আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখে আগুনের চারপাশের ২০০ থেকে ২৫০ মিটার এলাকা সাধারণ মানুষের প্রবেশমুক্ত ও বিচ্ছিন্ন রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বাপেক্সের প্রতিনিধিরা।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, ইনানীর ওই এলাকায় ২০০ থেকে ২৫০ মিটারের মধ্যে জনসমাগম না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগুন নিভে যাওয়ার ওপর নির্ভর করে পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর নলকূপের গভীর থেকে গ্যাসের উদ্গিরণ সকালের তুলনায় বেড়েছে। এতে আগুনের তীব্রতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
নলকূপ খনন করতে গিয়ে আগুন
মঙ্গলবার সকালে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইনানীর ছোট ব্রিজসংলগ্ন একটি বসতভিটায় গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য খননকাজ চলছিল। একপর্যায়ে মাটির নিচ থেকে তীব্র গন্ধযুক্ত গ্যাস বেরিয়ে আসে। এর পরপরই নলকূপের মুখে আগুন জ্বলে ওঠে।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম জানান, বসতভিটায় গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ করার সময় হঠাৎ গ্যাস বের হতে শুরু করে। খবর পাওয়ার পরপরই তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রাথমিকভাবে ভূগর্ভে গ্যাসের উপস্থিতির কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গ্যাসের স্তর কতটা বিস্তৃত, সেখানে কী পরিমাণ গ্যাস মজুত রয়েছে এবং আগুন নিভতে কত সময় লাগতে পারে—এসব বিষয়ে জানতে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বাপেক্সের প্রতিনিধিদল।
অন্যদিকে, আগুনের শিখা বিদ্যুতের খুঁটি ও তার পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, আগুনের শিখা বিদ্যুতের তারে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তাই আগুনের প্রকৃত ঝুঁকি নিরূপণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
kalprakash.com/IM