রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ | ৯ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৩ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | বিকাল ৫:১৯:১৬
শিরোনাম
● জয়পুরহাটে ৮৯ লাখ টাকার কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার, আটক ২ ● ৫ বছর পর ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট পেলেন যবিপ্রবির অধ্যাপক জাভেদ ● ইবির সব অনুষদের শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়বে প্রশাসন: উপাচার্য ● কসবা–আখাউড়া সড়কে অবশেষে শুরু সংস্কারকাজ ● সিঙ্গাপুর-কাতার থেকে ৬ কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার ● চব্বিশের তিন মামলায় ফ্যাসিস্ট হাসিনাসহ ১১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র ● মোটরসাইকেলে সামনেও নম্বরপ্লেট বাধ্যতামূলক, সময় ১৫ নভেম্বর ● ইবিতে বিনা নোটিশে ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ● নাটোরের নলডাঙ্গায় ট্রাকচাপায় এক বৃদ্ধা নিহত, ট্রাকচালক আটক ● নারায়ণগঞ্জে স্বামীর ভাড়া বাসা থেকে কুবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার ● জয়পুরহাটে ৮৯ লাখ টাকার কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার, আটক ২ ● ৫ বছর পর ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট পেলেন যবিপ্রবির অধ্যাপক জাভেদ ● ইবির সব অনুষদের শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়বে প্রশাসন: উপাচার্য ● কসবা–আখাউড়া সড়কে অবশেষে শুরু সংস্কারকাজ ● সিঙ্গাপুর-কাতার থেকে ৬ কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার ● চব্বিশের তিন মামলায় ফ্যাসিস্ট হাসিনাসহ ১১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র ● মোটরসাইকেলে সামনেও নম্বরপ্লেট বাধ্যতামূলক, সময় ১৫ নভেম্বর ● ইবিতে বিনা নোটিশে ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ● নাটোরের নলডাঙ্গায় ট্রাকচাপায় এক বৃদ্ধা নিহত, ট্রাকচালক আটক ● নারায়ণগঞ্জে স্বামীর ভাড়া বাসা থেকে কুবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

শেখ হাসিনা থেকে বেগম খালেদা জিয়া হল, এক দশকেও অসমাপ্ত নির্মাণকাজ

মুজতাহিদ মিনার, বেরোবি প্রতিনিধি
মুজতাহিদ মিনার, বেরোবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৮
শেয়ার: mail
শেখ হাসিনা থেকে বেগম খালেদা জিয়া হল, এক দশকেও অসমাপ্ত  নির্মাণকাজ

সম্প্রতি নাম পরিবর্তন করে ‘শেখ হাসিনা হল’ থেকে ‘বেগম খালেদা জিয়া হল’ করা হয়েছে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) নির্মাণাধীন ১০ তলাবিশিষ্ট একটি ছাত্রী হলের। তবে নাম পরিবর্তন হলেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ। প্রায় ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও অসমাপ্ত রয়েছে হলটির নির্মাণকাজ। দীর্ঘ বিরতির পর চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি কাজ পুনরায় শুরু হলেও এখনো তা চলছে ধীরগতিতে। ফলে দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট নিরসনের অপেক্ষা বাড়ছে নারী শিক্ষার্থীদের।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল কনফারেন্সের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন। প্রকল্পগুলো হলো ১০ তলাবিশিষ্ট ছাত্রী হল, ড. ওয়াজেদ রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এবং স্বাধীনতা স্মারক।

শুরুর দিকে প্রকল্পগুলোর নির্মাণকাজে অগ্রগতি থাকলেও পরবর্তী সময়ে নকশা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন এবং নির্মাণব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্মাণকাজ বন্ধ করে তদন্তের নির্দেশ দেয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানানো হলে প্রকল্পগুলোর কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম নুর-উন-নবীর সময়ে ছাত্রী হল ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পাঁচতলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। অন্যদিকে স্বাধীনতা স্মারকের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছিল। পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর দায়িত্বকালে দুটি ভবনের নকশা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করে নির্মাণব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, গবেষণা ইনস্টিটিউটের নির্মাণব্যয় ২৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, ছাত্রী হলের ব্যয় ৫১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা এবং স্বাধীনতা স্মারকের ব্যয় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছিল।

দীর্ঘ বিরতির পর চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি ছাত্রী হল ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হয়। তবে কাজের গতি নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, নির্মাণস্থলে পর্যাপ্ত শ্রমিক ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে নিয়মিত কাজ হচ্ছে না। ফলে নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শেষ হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী সাথী রায় বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সংকট দীর্ঘদিনের। শিক্ষার্থীদের থাকার কষ্ট লাঘবে হলটির নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করা জরুরি। আমরা যারা হলে থাকি, অনেক সময় এক বিছানায় দুজনকে থাকতে হয়, যা খুবই অস্বস্তিকর। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই হলের নাম পরিবর্তন এবং দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকা দুঃখজনক। প্রশাসনের উচিত নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে আবাসন সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক নারী শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরও আমরা অনেকেই হলে থাকার সুযোগ পাই না। বাধ্য হয়ে মেসে থাকতে হয়। সেখানে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়। অনেক সময় মেস মালিকদের কাছে আমরা জিম্মি হয়ে পড়ি।’

শিক্ষার্থীদের মেসসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে সম্প্রতি মেস মালিক সমিতির সঙ্গে বৈঠক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ওই বৈঠকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তবে শিক্ষার্থীদের মতে, আবাসন সংকটের স্থায়ী সমাধানে নির্মাণাধীন হলটির কাজ দ্রুত শেষ করা জরুরি।

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী মাহফুজ আলম অনি বলেন, ‘এ বিষয়ে প্রশাসনের উদাসীনতা রয়েছে বলে মনে করি। একটি বড় ভবন নির্মাণে নিয়মিত ১০ জন বা তার বেশি শ্রমিক কাজ করার কথা। সেখানে দুই-তিনজন শ্রমিক দিয়ে কাজ চললেও প্রশাসন কেন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না, তা বোধগম্য নয়। কাজের ধীরগতিতে শিক্ষার্থীরা সময়মতো আবাসনসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’

গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২৩তম সিন্ডিকেট সভায় নির্মাণাধীন ছাত্রী হলটির নাম পরিবর্তন করে ‘বেগম খালেদা জিয়া হল’ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা বিভাগ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

নির্মাণকাজের ধীরগতির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘নির্মাণাধীন হলের কাজ দ্রুত শেষ হোক, এটা আমরাও চাই। তবে যিনি কাজটির ঠিকাদার, তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার আসামি। এ কারণে হয়তো কাজ বন্ধ রয়েছে। আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। তিনি ব্যর্থ হলে নতুন কাউকে দিয়ে কাজ করানো হবে।’

এদিকে গত বছরের ২৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৪তম জরুরি সিন্ডিকেট সভায় ড. ওয়াজেদ রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের নাম পরিবর্তন করে ‘ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্স’ রাখা হয়।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

শেখ হাসিনা থেকে বেগম খালেদা জিয়া হল, এক দশকেও অসমাপ্ত নির্মাণকাজ

বিস্তারিত কমেন্টে