সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ | ১০ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৪ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | রাত ১:০৬:৪৫
শিরোনাম
● অবক্ষয়ের চোরাবালি ও আমাদের সমাজ ● বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন ● ২০২৭ সালের রমজান ও দুই ঈদের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ ● গিয়ারে ত্রুটি: হোন্ডার ৯৪ বাইক প্রত্যাহারের ঘোষণা সৌদির ● অন্যের নামে জমি রেকর্ড হলে নিজের নামে করবেন যেভাবে ● ফের চালু হচ্ছে সেন্টমার্টিন, পর্যটকদের দিতে হবে এবার পরিবেশ ফি ● বিভিন্ন মাদরাসায় সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে যা বললেন আজহারী ● হুথি হামলায় বন্ধ হওয়ার পর ফের ফ্লাইট চালু করতে প্রস্তুত রিয়াদ বিমানবন্দর ● ক্যাথলিক গির্জায় যৌন নিপীড়ন: ১৩০০ ভুক্তভোগীকে ৮০ কোটি ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ ● ৫৩ বছরেও যেভাবে নিজেকে ফিট রাখেন মালাইকা ● অবক্ষয়ের চোরাবালি ও আমাদের সমাজ ● বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন ● ২০২৭ সালের রমজান ও দুই ঈদের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ ● গিয়ারে ত্রুটি: হোন্ডার ৯৪ বাইক প্রত্যাহারের ঘোষণা সৌদির ● অন্যের নামে জমি রেকর্ড হলে নিজের নামে করবেন যেভাবে ● ফের চালু হচ্ছে সেন্টমার্টিন, পর্যটকদের দিতে হবে এবার পরিবেশ ফি ● বিভিন্ন মাদরাসায় সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে যা বললেন আজহারী ● হুথি হামলায় বন্ধ হওয়ার পর ফের ফ্লাইট চালু করতে প্রস্তুত রিয়াদ বিমানবন্দর ● ক্যাথলিক গির্জায় যৌন নিপীড়ন: ১৩০০ ভুক্তভোগীকে ৮০ কোটি ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ ● ৫৩ বছরেও যেভাবে নিজেকে ফিট রাখেন মালাইকা

বিজ্ঞান থেকে স্বাস্থ্য, ভারত-ইউএনডিপির দীর্ঘ পথচলা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৬
শেয়ার: mail
বিজ্ঞান থেকে স্বাস্থ্য, ভারত-ইউএনডিপির দীর্ঘ পথচলা

ভারতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার বিকাশ থেকে শুরু করে স্যাটেলাইট যোগাযোগ, ডিজিটাল শাসনব্যবস্থা, জনস্বাস্থ্য ও জলবায়ু সহনশীলতা, উন্নয়নের নানা ক্ষেত্রে গত সাত দশকে সহযোগিতা করেছে জাতিসংঘ। সময়ের সঙ্গে ভারতের অগ্রাধিকার বদলালেও দেশটির উন্নয়ন কার্যক্রমে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) অংশীদারত্ব বিস্তৃত হয়েছে বিভিন্ন খাতে।

১৯৫০-এর দশকে স্বাধীন ভারতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও গবেষক তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।

১৯৬৫ সালে ইউএনডিপি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেই জাতিসংঘের কারিগরি সহযোগিতা ভারতের বিজ্ঞান ও প্রকৌশল সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। আইআইটি খড়গপুর (১৯৫০) ও আইআইটি বোম্বে (১৯৫৮)-এর বিকাশে এ সহযোগিতা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় ভারত-ইউএনডিপি অংশীদারত্বের এসব মাইলফলক তুলে ধরা হয়েছে।

১৯৬০-এর দশকে সহযোগিতার ক্ষেত্র বিস্তৃত হয় জ্বালানি ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে। ১৯৬৬ সালে অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস করপোরেশনের ইনস্টিটিউট অব পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশনে প্রশিক্ষণ ও গবেষণায় সহায়তা ভারতের নিজস্ব তেল অনুসন্ধান সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। পরের বছর আহমেদাবাদে ভারতের প্রথম পরীক্ষামূলক স্যাটেলাইট যোগাযোগ আর্থ স্টেশন স্থাপনে কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হয়।

১৯৭০-এর দশকে দুগ্ধশিল্প, সম্প্রচার ও সরকারি প্রশাসনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সহযোগিতা করা হয়। ভারতের দুগ্ধ উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কাজ করে ইউএনডিপি অপারেশন ফ্লাড কর্মসূচিতে সহায়তা দেয়, যা দেশটির দুগ্ধশিল্প ও দুধ সরবরাহব্যবস্থার রূপান্তরে ভূমিকা রাখে।

পুনের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের উন্নয়ন এবং টেলিভিশন প্রশিক্ষণ বিভাগ প্রতিষ্ঠায়ও সহযোগিতা করা হয়। একই সময়ে ন্যাশনাল ইনফরমেটিকস সেন্টারে মেইনফ্রেম কম্পিউটিং চালুর মাধ্যমে সরকারি প্রশাসনে কম্পিউটার ব্যবহারের প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি হয়।

১৯৮০-এর দশকে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া হয়। ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার গবেষণা ও প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তার পাশাপাশি ১৯৮৬ সালে ভারতের শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করতে ইআরএনইটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলায় সহযোগিতা করা হয়।

১৯৯০-এর দশকে উন্নয়নকে শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের জীবনমানের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব বাড়ে। ভারতের পরিকল্পনা কমিশনের সঙ্গে কাজ করে মানব উন্নয়নভিত্তিক নীতিনির্ধারণে সহায়তা করে ইউএনডিপি। অন্ধ্র প্রদেশে নারীদের স্বনির্ভর গোষ্ঠী শক্তিশালী করা, হিমালয় অঞ্চলে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি কৌশল এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও সহযোগিতা বিস্তৃত হয়।

২০০০-এর দশকে নাগরিক অধিকার, স্থানীয় সরকার ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ২০০৫ সালে তথ্য অধিকার আইন চালুর পর সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও আইন বাস্তবায়নে সহায়তা দেওয়া হয়। গ্রামীণ কর্মসংস্থান কর্মসূচি, স্থানীয় সরকারে নির্বাচিত নারী প্রতিনিধিদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং লিঙ্গভিত্তিক বাজেট প্রণয়নেও সহযোগিতা করা হয়।

২০১০-এর দশকে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবেশগত স্থায়িত্ব অংশীদারত্বের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। ইউএনডিপির সহায়তায় চালু হওয়া ইলেকট্রনিক ভ্যাকসিন ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্ক (ইভিআইএন) টিকার মজুত ও সংরক্ষণ তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ ডিজিটাল ব্যবস্থায় নিয়ে আসে। পরে কোভিড-১৯ টিকা ব্যবস্থাপনাতেও এ ধরনের প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অর্থায়ন পরিকল্পনা এবং শিল্প ও রেলওয়েতে জ্বালানি দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়।

২০২০-এর দশকে কোভিড-১৯ মোকাবিলা, ডিজিটাল টিকাদানব্যবস্থা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়েছে। কোউইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কোভিড টিকাদান ব্যবস্থায় সহায়তার পাশাপাশি গর্ভবতী নারী ও শিশুদের নিয়মিত টিকাদানের জন্য ইউ-উইন ব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করা হয়েছে।

এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, ক্ষুদ্র কৃষকদের ফসলবিমা, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবিকা এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সুরক্ষায় কাজ চলছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রাথমিক অবকাঠামো গড়ে তোলা থেকে শুরু করে জনস্বাস্থ্য, ডিজিটাল সেবা ও পরিবেশ সুরক্ষা, ভারত-ইউএনডিপি অংশীদারত্বের বিবর্তনে উন্নয়নের পরিবর্তিত চাহিদার প্রতিফলন ঘটেছে। বর্তমানে দুই পক্ষের সহযোগিতার মূল লক্ষ্য হলো বৃহৎ পরিসরে কার্যকর সেবা নিশ্চিত করা এবং উন্নয়নের সুফল আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

সূত্র: ইউএনডিপির বরাতে বাংলাদেশ প্রতিদিন

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

বিজ্ঞান থেকে স্বাস্থ্য, ভারত-ইউএনডিপির দীর্ঘ পথচলা

বিস্তারিত কমেন্টে