রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ | ৯ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৩ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | রাত ১২:০৪:৪৪
শিরোনাম
● গোপালগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের মিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলা, আহত ২ ● টঙ্গীতে সাদপন্থিদের ইজতেমা বাতিলসহ দুই দাবি হেফাজতের ● শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকে চাকরির সুযোগ, আবেদন অনলাইনে ● প্রাইভেট ব্যাংকে জব সার্কুলার, আবেদন চলবে আরও ৫ দিন ● দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত, পশ্চিম তীরে অভিযানের হুমকি নেতানিয়াহুর ● ওসির সঙ্গে বাদানুবাদে মামলা হলে আমাকেই প্রধান আসামি করুন: রুমিন ফারহানা ● প্রেস সচিবের স্টাফ পরিচয়ে প্রতারণা, নাটোরে আটক ছাত্রলীগ নেতা ● মিরসরাই সীমান্তে ৩ ভারতীয় গরু জব্দ, পালিয়ে গেল চোরাকারবারিরা ● ফোন করে ডেকে নিয়ে মোটরসাইকেল ছিনতাই, প্রাইভেটকারসহ গ্রেপ্তার ২ ● পদত্যাগের প্রশ্ন হেসে উড়িয়ে দিলেন ইনফান্তিনো ● গোপালগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের মিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলা, আহত ২ ● টঙ্গীতে সাদপন্থিদের ইজতেমা বাতিলসহ দুই দাবি হেফাজতের ● শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকে চাকরির সুযোগ, আবেদন অনলাইনে ● প্রাইভেট ব্যাংকে জব সার্কুলার, আবেদন চলবে আরও ৫ দিন ● দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত, পশ্চিম তীরে অভিযানের হুমকি নেতানিয়াহুর ● ওসির সঙ্গে বাদানুবাদে মামলা হলে আমাকেই প্রধান আসামি করুন: রুমিন ফারহানা ● প্রেস সচিবের স্টাফ পরিচয়ে প্রতারণা, নাটোরে আটক ছাত্রলীগ নেতা ● মিরসরাই সীমান্তে ৩ ভারতীয় গরু জব্দ, পালিয়ে গেল চোরাকারবারিরা ● ফোন করে ডেকে নিয়ে মোটরসাইকেল ছিনতাই, প্রাইভেটকারসহ গ্রেপ্তার ২ ● পদত্যাগের প্রশ্ন হেসে উড়িয়ে দিলেন ইনফান্তিনো

২০৩২ সালে ২০০ বিলিয়ন ডলারে উঠবে ভারত-আমিরাত বাণিজ্য

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২০
শেয়ার: mail
২০৩২ সালে ২০০ বিলিয়ন ডলারে উঠবে ভারত-আমিরাত বাণিজ্য

প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, স্টার্টআপ, আর্থিক প্রযুক্তি (ফিনটেক), নবায়নযোগ্য জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়িয়ে ২০৩২ সালের মধ্যে ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

ভারতের এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বলেছেন, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের পরবর্তী ধাপের প্রবৃদ্ধিতে এসব খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ইতিমধ্যে ভারত ও আমিরাতের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো এ সীমা ছাড়ানোর পর দুই দেশ এখন বাণিজ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র খুঁজছে।

দুবাই ও উত্তর আমিরাতের দায়িত্বে থাকা ভারতের কনসাল জেনারেল ড. বিষ্ণু বর্ধন রেড্ডি দুবাইয়ে আয়োজিত ইনোভেটরস অ্যান্ড ইনভেস্টরস সিরিজ শীর্ষক এক সম্মেলনে এসব কথা বলেন। ভারতীয় কমিউনিটিভিত্তিক সংগঠন ইন্ডিয়ান পিপলস ফোরাম (আইপিএফ) এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

রেড্ডি বলেন, ভারত-আমিরাত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারের সীমা ছাড়িয়েছে। এখন এ বাণিজ্যকে ২০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, পরবর্তী ১০০ বিলিয়ন ডলারের প্রবৃদ্ধি আসতে পারে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি, স্টার্টআপ, ফিনটেক, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রযুক্তি থেকে।

ভারত-আমিরাত বাণিজ্যের চিত্র

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত ও আমিরাতের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০১ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারে। এর মধ্যে আমিরাতে ভারতের রপ্তানি ৩৭ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি। ফলে ভারতীয় পণ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য এখন আমিরাত। সামগ্রিক বাণিজ্যের হিসাবে দেশটি ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার।

অন্যদিকে আমিরাত থেকে ভারতের আমদানির পরিমাণ ৬৩ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার। আমিরাতের জন্যও ভারত দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশ ২০৩২ সালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে সম্মত হয়েছে।

স্টার্টআপ ও ফিনটেকে ভারতের সম্ভাবনা

ভারতের বিশাল স্টার্টআপ খাতকে দুই দেশের বাণিজ্য বাড়ানোর অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতে স্টার্টআপের সংখ্যা ৭ লাখ ৯৭ হাজার ২৩০টির বেশি। এ হিসাবে বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্টআপকেন্দ্র ভারত।

এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৫ হাজার ৫০০টি অর্থায়ন পাওয়া কোম্পানি রয়েছে। তারা সম্মিলিতভাবে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও প্রাইভেট ইকুইটি থেকে ৬৮৩ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে। ভারতে বর্তমানে ৯৩টি ইউনিকর্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেসব বেসরকারি স্টার্টআপের বাজারমূল্য অন্তত ১ বিলিয়ন ডলার।

প্রতিবেদনের তথ্যে আরও বলা হয়েছে, ১ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন বিনিয়োগকারী মোট ৫৩ হাজার ৫২১টি অর্থায়ন পর্বে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ৩ হাজার ১৩৬টি স্টার্টআপ প্রাথমিক পর্যায়ে এবং ৯১৮টি পরবর্তী পর্যায়ে অর্থায়ন পেয়েছে।

গত পাঁচ বছরে ভারতে ১ লাখ ১৩ হাজার ৬২৪টি নতুন কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এসব কোম্পানি ১৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থায়ন সংগ্রহ করেছে। একই সময়ে ভারতীয় স্টার্টআপ খাতে ৫ হাজার ৩৪৭টি অধিগ্রহণ ও ৬ হাজার ৫৩১টি প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) হয়েছে। তবে ১ লাখ ৮ হাজার ৬১৪টি স্টার্টআপ তাদের কার্যক্রম বন্ধ করেছে। এ ছাড়া নারীদের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির সংখ্যা ২৩ হাজার ৭১৯টি।

ভারতের স্টার্টআপ খাতের প্রসারে সরকারি উদ্যোগও ভূমিকা রাখছে। ভারত স্টার্টআপ নলেজ অ্যাকসেস রেজিস্ট্রি বা ভাস্কর প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারকারী ৬ লাখ ৬০ হাজার ছাড়িয়েছে। সরকারি ই-মার্কেটপ্লেসের (জিইএম) মাধ্যমে স্টার্টআপগুলো ৫১ হাজার কোটি রুপির বেশি মূল্যের ক্রয়াদেশ পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারতীয় স্টার্টআপে আমিরাতের বিনিয়োগের আহ্বান

সম্মেলনে দুটি ভারতীয় স্টার্টআপ, জে প্লাস হেলথকেয়ার এবং ইউনিভার্সিটি লিভিং, তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের জন্য বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরে।

জে প্লাস হেলথকেয়ার ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পণ্য সরবরাহ ও পরিবহনের সমস্যার সমাধানে কাজ করছে। অন্যদিকে ইউনিভার্সিটি লিভিং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষার্থীদের সাশ্রয়ী আবাসন খুঁজে পেতে সহায়তা করে।

রেড্ডি বলেন, আমিরাতের সঙ্গে বাণিজ্য দ্বিগুণ করতে হলে নতুন অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে ভারতীয় স্টার্টআপ ও ফিনটেক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। এসব প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক পর্যায়ে ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য মূলধন দরকার। এ ক্ষেত্রে আমিরাতের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

বলিউড অভিনেতা ও বিনিয়োগকারী বিবেক ওবেরয়ও ভারতীয় স্টার্টআপে আমিরাতের বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, ব্যবসায় সাফল্যের পাশাপাশি ব্যর্থতা থেকেও শিক্ষা নেওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

ওবেরয় বলেন, তিনি ৩৫টি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছেন। এর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান প্রত্যাশা অনুযায়ী ভালো করতে পারেনি। তবে সফল প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, আমিরাতের বিনিয়োগকারী ও প্রাতিষ্ঠানিক মূলধন ভারতীয় স্টার্টআপে বিনিয়োগ করে বড় বৈশ্বিক ব্যবসা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নতুন প্রযুক্তিতে গুরুত্ব

ভারতীয় ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মেশিন লার্নিং ও রোবোটিকসনির্ভর স্টার্টআপে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন আইপিএফের ব্যবসা ও পেশাজীবী কাউন্সিলের সহ-আহ্বায়ক এবং স্টকিফাইয়ের প্রতিষ্ঠাতা পীযূষ ঝুনঝুনওয়ালা।

তিনি বলেন, বিচক্ষণ বিনিয়োগের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা নিজেদের সম্পদ বাড়ানোর পাশাপাশি সমাজ ও দেশের উন্নয়নেও অবদান রাখতে পারেন। একই সঙ্গে স্টার্টআপগুলোর কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং ইউনিকর্ন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার সুযোগ বাড়বে।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ভারতে ১ লাখ ৬৬ হাজার ইকুইটি অর্থায়ন পর্বে ১৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে ২ লাখ ৭২ হাজার অর্থায়ন পর্বে সংগ্রহের পরিমাণ ছিল ১৭ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ অর্থায়নের মোট পরিমাণ বেড়েছে ৬ দশমিক ১১ শতাংশ, যদিও অর্থায়ন পর্বের সংখ্যা কমেছে।

কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্যোগ

আইপিএফের জাতীয় সভাপতি জিতেন্দ্র বৈদ্য বলেন, ভারত ও আমিরাতের সম্পর্ক এখন কৌশলগত পর্যায়ে পৌঁছেছে। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বিনিয়োগ বাড়লে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং উভয় দেশই উপকৃত হবে। তিনি বলেন, প্রবাসী ভারতীয়দের একত্র করে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়নে অবদান রাখাই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য।

সুতরাং বলা যায়, ভারত ও আমিরাতের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে প্রযুক্তি, স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনকে সামনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে ২০৩২ সালের মধ্যে বাণিজ্য ২০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে শুধু পণ্য আমদানি-রপ্তানি বাড়ানো নয়, বরং বিনিয়োগ, নতুন প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর জোর দিতে হবে।

সূত্র: খালিজ টাইমস

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

২০৩২ সালে ২০০ বিলিয়ন ডলারে উঠবে ভারত-আমিরাত বাণিজ্য

বিস্তারিত কমেন্টে