কানাডার আলবার্টা প্রদেশে একটি সামরিক ঘাঁটির কাছে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগিন্টি হতাহতের সঠিক সংখ্যা বা আগুনের কারণ নিশ্চিত করেননি। তিনি পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সক্রিয় ও স্পর্শকাতর বলে বর্ণনা করেছেন। কানাডার সামরিক বাহিনী ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বলে জানান তিনি। কানাডার অন্যতম ব্যস্ত সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র কানাডিয়ান ফোর্সেস বেস ওয়েনরাইটে আগুনের সূত্রপাত হয়।
কানাডার টেলিভিশন চ্যানেল গ্লোবাল নিউজ অজ্ঞাতনামা সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সামরিক বাহিনীর একটি সরাসরি গোলাবর্ষণ প্রশিক্ষণ চলাকালে গ্যাসের পাইপলাইন বা গ্যাসকূপে আঘাত লাগার পর অন্তত সাতজন নিহত এবং আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, সেখানে একটি বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আক্রান্ত সাহসী নারী ও পুরুষদের কথা আমার ভাবনায় রয়েছে।’
কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (সিবিসি) জানিয়েছে, এডমন্টনের রয়্যাল আলেকজান্দ্রা হাসপাতালে হতাহতের ভিড় বেশি হওয়ায় জরুরি সাড়াদানের জন্য ‘কোড অরেঞ্জ’ ঘোষণা করা হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ওয়ারেন থিরস্ক সম্প্রচারমাধ্যমটিকে বলেন, এত বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ অন্যথায় এডমন্টনের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে সামাল দেওয়ার বাইরে নিয়ে যেত। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের কারও প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি রোগী রয়েছেন। এটি একটি দুর্যোগ। ১৫ থেকে ২৫ বছরে একবার এমন দুর্যোগ দেখা যায়।’
শনিবার আগুন লাগার পর প্রবল বাতাসের কারণে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সামরিক ঘাঁটির সীমানাপ্রাচীরের বেড়া পেরিয়ে যায় বলে জানিয়েছে ওয়েনরাইটের পৌর জেলা কর্তৃপক্ষ। ওই অঞ্চলে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০০ কিলোমিটার (৬২ মাইল) বেগে বাতাস বয়ে যায়। তবে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, এটি স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
আগুন ঠিক কখন লাগে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে পৌর জেলা কর্তৃপক্ষ প্রথম এ বিষয়ে পোস্ট দেয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলতে এবং জরুরি যানবাহন চলাচলের জন্য পথ ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
কাছের ওয়েনরাইট শহরের মেয়র ব্রুস পিউ বলেন, তাঁর সম্প্রদায়ের জন্য এটি একটি ‘ভারী ও শোকাবহ দিন’। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশীদের কেউ সামরিক বাহিনীতে কর্মরত, আবার কেউ সাবেক সেনাসদস্য। আমাদের জীবন একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। আমাদের সন্তানরা একই হকি দলে খেলে, একই স্কুলে যায়।’
অগ্নিকাণ্ডের পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি এখনো জানা যায়নি। তবে মেয়র পিউয়ের ধারণা, এটি ওই এলাকার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গণহতাহতের ঘটনায় পরিণত হতে পারে।
আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ এই অগ্নিকাণ্ডকে গুরুতর ও মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এতে প্রদেশের বহু সাহসী সামরিক সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
প্রতিবেশী প্রদেশগুলোও সহায়তার জন্য এগিয়ে এসেছে। সাসকাচোয়ানের প্রিমিয়ার স্কট মো জানিয়েছেন, তিনি আলবার্টায় সহায়তা পাঠিয়েছেন এবং প্রয়োজন হলে আরও সহায়তা দিতে প্রস্তুত। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার প্রিমিয়ার ডেভিড ইবি জানিয়েছেন, তাঁর সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।
সিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ওয়েনরাইট ঘাঁটিটি কানাডার সামরিক বাহিনীর সরাসরি গোলাবর্ষণ প্রশিক্ষণের প্রধান কেন্দ্র। সাধারণত সেখানে প্রায় ৬৯০ জন সামরিক সদস্য ও ৩০০ জন বেসামরিক কর্মী অবস্থান করেন। সূত্র: বিবিসি
kalprakash.com/IM