আজ বিশ্ব বিড়াল দিবস। দিবসটির ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রাণীকল্যাণ সংস্থা অ্যালি ক্যাট অ্যালাইসের নাম। ২০০১ সালে সংস্থাটি ১৬ অক্টোবর ন্যাশনাল ফেরাল ক্যাট ডে চালু করে। মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা এবং খোলা পরিবেশে বসবাস করা বিড়ালদের সুরক্ষা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোই ছিল এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
সে সময় পথবিড়াল ও মানুষের আশপাশে বসবাস করা বিড়ালদের প্রতি অবহেলা, নির্যাতন এবং তাদের হত্যা করার মতো ঘটনা প্রাণীকল্যাণকর্মীদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল। এমন পরিস্থিতিতে বিড়ালের জীবন রক্ষা, তাদের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা এবং বিকল্প পরিচর্যার ব্যবস্থা নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির প্রয়োজন দেখা দেয়।
পরবর্তী সময়ে এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করে। ২০১৭ সালের ১৬ অক্টোবর প্রথমবারের মতো গ্লোবাল ক্যাট ডে উদযাপন করে অ্যালি ক্যাট অ্যালাইস। এর মধ্য দিয়ে দিবসটির পরিধি আরও বিস্তৃত হয়। পথবিড়ালসহ বিশ্বের সব বিড়ালের সুরক্ষা ও কল্যাণের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার উদ্যোগ জোরদার হয়।
কেন পালন করা হয় বিশ্ব বিড়াল দিবস
বিশ্ব বিড়াল দিবসের উদ্দেশ্য শুধু বিড়ালকে নিয়ে আনন্দ উদ্যাপন নয়; বরং তাদের জীবন রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিড়ালের প্রতি মানুষের দায়িত্বশীল আচরণ উৎসাহিত করা। পথবিড়াল প্রায়ই খাবারের অভাব, অসুস্থতা, সড়ক দুর্ঘটনা ও মানুষের নির্যাতনের শিকার হয়। তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসা এবং নিয়মিত পরিচর্যার সুযোগ তৈরি করা জরুরি।
এই দিবসের মাধ্যমে বিড়ালের প্রতি নিষ্ঠুরতা বন্ধ করা, অসহায় বিড়ালের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের জন্য মানবিক পরিবেশ গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি পোষা বিড়ালের যথাযথ যত্ন নেওয়া এবং প্রাণীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করার বিষয়েও মানুষকে উৎসাহিত করা হয়।
পথবিড়ালের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে মানবিক পদ্ধতি
পথবিড়ালের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে মানবিক পদ্ধতি হিসেবে ট্র্যাপ-নিউটার-রিটার্ন (টিএনআর) কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ পদ্ধতিতে বিড়ালকে নিরাপদে ধরে নির্বীজকরণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পর সাধারণত আগের পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে বিড়ালের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি তাদের জীবন রক্ষা এবং অনিয়ন্ত্রিত প্রজনন কমানোর চেষ্টা করা হয়।
বিশ্ব বিড়াল দিবস তাই শুধু একটি প্রাণীকে ভালোবাসার প্রতীক নয়, বরং সব বিড়ালের জন্য নিরাপদ ও সহনশীল পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান। পোষা কিংবা পথবিড়াল—প্রতিটি প্রাণীর প্রতি মানবিক আচরণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয় দিনটি।
kalprakash.com/IM