‘গ্রামীণ নারী ক্ষমতায়ন ও সমৃদ্ধির পথে’—এই প্রতিপাদ্যে কুড়িগ্রামে বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে গ্রামীণ নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও সমাজে তাঁদের অবদান তুলে ধরতে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এবং সুইডেন সরকারের অর্থায়নে দিবসটি উদ্যাপন করে মহিদেব যুব সমাজ কল্যাণ সমিতি। আয়োজনে চরাঞ্চলের প্রায় অর্ধশত নারী অংশগ্রহণ করেন।
দিবসটি উপলক্ষে সকালে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি সদর উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. শাহিন মিয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ আব্দুল গফুর, জিকা সদস্য সুজন মোহন্ত এবং প্রকল্প সমন্বয়কারী লুৎফর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল গ্রামীণ খেলাধুলা, আলোচনা সভা, মানববন্ধন ও পুরস্কার বিতরণ। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন, তাঁদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবার ও সমাজে নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে চরাঞ্চলের নারীদের জীবনসংগ্রাম, তাঁদের সম্ভাবনা এবং বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনে গ্রামীণ নারীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষিকাজ, গৃহস্থালি পরিচালনা, পরিবারের আয় বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। কিন্তু নানা সামাজিক প্রতিবন্ধকতা, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা ও সুযোগের অভাবে অনেক নারী তাঁদের যোগ্যতা অনুযায়ী এগিয়ে যেতে পারছেন না। তাঁদের উন্নয়নে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।
বক্তারা আরও বলেন, চরাঞ্চলের নারীরা ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা, যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে জীবনযাপন করেন। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন, আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং তাঁদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
তাঁরা বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন শুধু নারীর ব্যক্তিগত উন্নয়নের বিষয় নয়; এটি একটি পরিবার, সমাজ ও দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই গ্রামীণ নারীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের মতামত ও অধিকারকে গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া নারীরা বিভিন্ন গ্রামীণ খেলাধুলায় অংশ নেন। পরে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। দিনব্যাপী এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে গ্রামীণ নারীদের অংশগ্রহণ, পারস্পরিক যোগাযোগ এবং তাঁদের অধিকার ও সম্ভাবনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
kalprakash.com/IM