উপকূলীয় দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ভৌগোলিক পরিবর্তন ও দুর্যোগ-পরবর্তী রোগের গতিশীলতা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহের কৌশল নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পাঁচ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের উদ্যোগে হায়ার এডুকেশন অ্যাক্সেলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রজেক্টের আওতায় ৪ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ‘ট্রেনিং ওয়ার্কশপ অন ডাটা কালেকশন টেকনিকস ফর কোস্টাল হ্যাজার্ডস অ্যান্ড পোস্ট-ডিজাস্টার ডিজিজ ডায়নামিকস’ শীর্ষক কর্মশালাটিতে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রশিক্ষণ দেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা।
প্রশিক্ষণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ রুয়েট, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, পিএইচডি ফেলো, গবেষক ও স্নাতক-স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
পাঁচ দিনব্যাপী এ বহুমাত্রিক প্রশিক্ষণে গণিত, পরিসংখ্যান, নৃবিজ্ঞান, ভূতত্ত্ব, ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান, আবহাওয়াবিজ্ঞান, নৌ-সার্ভে এবং কম্পিউটার বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিষয়ভিত্তিক সেশনগুলোতে রোগ ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ নিয়ে পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. গোলাম হোসাইন, প্রশ্নমালা প্রণয়ন বিষয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং উপকূলীয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. আশাবুল হক আলোচনা করেন।
পানি, জোয়ার-ভাটা ও জলোচ্ছ্বাসসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং জলোচ্ছ্বাস সিমুলেশন ও ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথের পূর্বাভাস নিয়ে গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. গৌর চন্দ্র পাল দিকনির্দেশনা দেন। এ ছাড়া আবহাওয়ার পূর্বাভাস বিষয়ে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ খ. হাফিজুর রহমান, তথ্য সংগ্রহপ্রক্রিয়া নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আল মোহিত এবং ভূ-প্রাকৃতিক পরিবর্তন নিয়ে ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ড. মো. মাসিদুল হক বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
রিমোট সেন্সিংয়ের ব্যবহার নিয়ে ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রেজাউর রহমান এবং ডিপ লার্নিং ও আধুনিক কম্পিউটেশনাল পদ্ধতি নিয়ে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড. অনুপ কুমার পাল প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন।
আয়োজকরা জানান, উপকূলীয় দুর্যোগ ও দুর্যোগ-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে নির্ভরযোগ্য মাঠপর্যায়ের তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ উপকূলীয় ঝুঁকি মূল্যায়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নির্ভুল পূর্বাভাস ও তথ্যভিত্তিক গবেষণায় তরুণ গবেষকদের সক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।