কোনো মুসলিম ব্যক্তি মারা গেলে তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তি স্ত্রী, সন্তান ও অন্যান্য ওয়ারিশদের মধ্যে কীভাবে বণ্টন হবে, এ নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে। সঠিক তথ্যের অভাবে অনেক সময় কোনো ওয়ারিশ তাঁর প্রাপ্য অধিকার থেকেও বঞ্চিত হন। তাই ইসলামী উত্তরাধিকার আইনে সম্পত্তি বণ্টনের নিয়ম জানা গুরুত্বপূর্ণ।
ধরা যাক, কোনো মুসলিম ব্যক্তি মৃত্যুকালে একজন স্ত্রী, ৪ জন পুত্র ও ২ জন কন্যা রেখে গেছেন এবং অন্য কোনো ওয়ারিশ নেই। তাহলে শরিয়তি বিধান অনুযায়ী তাঁর সম্পত্তি কীভাবে বণ্টন হবে?
বণ্টনের আগে যা করতে হবে
মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি ওয়ারিশদের মধ্যে ভাগ করার আগে কয়েকটি বিষয় নিষ্পত্তি করতে হয়। প্রথমে মরহুমের কাফন-দাফনের স্বাভাবিক ও যুক্তিসংগত খরচ পরিশোধ করতে হবে, যদি তা অন্য কেউ স্বেচ্ছায় বহন না করে থাকেন।
এরপর মৃত ব্যক্তির কোনো ঋণ বা দেনা থাকলে তা পরিশোধ করতে হবে। এর মধ্যে বকেয়া দেনমোহরসহ অন্যের কাছ থেকে নেওয়া ঋণও অন্তর্ভুক্ত।
ঋণ পরিশোধের পর বৈধ কোনো ওসিয়ত থাকলে তা কার্যকর করতে হবে। তবে সাধারণভাবে ওসিয়ত অবশিষ্ট সম্পত্তির সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত কার্যকর করা যায়।
এসব খরচ ও দায়-দেনা এবং বৈধ ওসিয়ত নিষ্পত্তির পর অবশিষ্ট সম্পত্তিই ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টনযোগ্য সম্পদ।
স্ত্রী কত অংশ পাবেন?
সন্তান থাকলে মৃত ব্যক্তির স্ত্রী কোরআনে নির্ধারিত ১/৮ অংশ পাবেন। অর্থাৎ মোট সম্পত্তিকে ৮ ভাগ করলে স্ত্রী পাবেন ১ ভাগ। বাকি ৭/৮ অংশ যাবে সন্তানদের মধ্যে।
সন্তানদের মধ্যে বণ্টন
এ ক্ষেত্রে ৪ জন পুত্র ও ২ জন কন্যা রয়েছেন। ইসলামী উত্তরাধিকার বিধান অনুযায়ী, একজন পুত্রের অংশ হবে দুই কন্যার অংশের সমান।
হিসাবের সুবিধার জন্য সন্তানদের অংশ এভাবে ধরা যায়—
৪ পুত্র × ২ = ৮ অংশ
২ কন্যা × ১ = ২ অংশ
মোট = ১০ অংশ
অর্থাৎ স্ত্রীকে ১/৮ দেওয়ার পর অবশিষ্ট ৭/৮ সম্পত্তি ১০টি সমান অংশে ভাগ হবে। প্রত্যেক পুত্র পাবেন ২ অংশ করে এবং প্রত্যেক কন্যা পাবেন ১ অংশ করে।
৮০ অংশে সহজ হিসাব
ফারায়েজের হিসাব সহজ করতে মোট সম্পত্তিকে ৮০টি সমান অংশ ধরে নেওয়া যায়।
স্ত্রী: ১০/৮০ অংশ
৪ পুত্র: প্রত্যেকে ১৪/৮০ অংশ
২ কন্যা: প্রত্যেকে ৭/৮০ অংশ
অর্থাৎ মোট ৮০ অংশের মধ্যে স্ত্রী পাবেন ১০ অংশ, চার পুত্র মিলে পাবেন ৫৬ অংশ এবং দুই কন্যা মিলে পাবেন ১৪ অংশ। সব মিলিয়ে ১০ + ৫৬ + ১৪ = ৮০ অংশ।
তবে বাস্তবে কোনো সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির বাবা-মা, দাদা-দাদি, ভাই-বোনসহ অন্য ওয়ারিশ জীবিত আছেন কি না, ঋণ ও ওসিয়তের বিষয় আছে কি না—এসবের ওপর হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে।
kalprakash.com/IM