ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উপজেলার মধুপুর গ্রামের কাকলী এলাকায় জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গভীর রাতে বসতবাড়িতে হামলা, ঘেরাও ও ফলজ-বনজ গাছ কেটে ফেলার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ও প্রতিপক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছেন।
ভুক্তভোগী তৈল মোহনের দাবি, পৈতৃক সূত্রে পাওয়া বিরোধপূর্ণ জমিতে তিনি গত ছয় মাস ধরে ঘর তুলে বসবাস করছেন। ঘটনার রাতে একদল দুর্বৃত্ত মুখ বেঁধে তাঁর বসতবাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং তাঁকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে তিনি দেখতে পান, তাঁর রোপণ করা প্রায় ৫০টি বনজ ও ফলজ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি তাঁর ভাই রঞ্জিত, রতন, বিশ্বদেবসহ স্থানীয় কয়েকজনকে অভিযুক্ত করেছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা জাকের হোসেন ও মালেক জানান, রাতে চিৎকার শুনে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তৈল মোহনকে ঘেরাও অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় প্রতিপক্ষ রঞ্জিত ও তাঁর লোকজনকে গাছ কাটা শেষে এলাকা থেকে সটকে পড়তে দেখেছেন বলে তাঁরা জানান।
তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন বিবাদী রঞ্জিত কুমার ও তাঁর ছেলে বিশ্বনাথ বর্মন। রঞ্জিত কুমারের দাবি, ঘটনার রাতে তাঁরা পরিবারের সবাই স্থানীয় একটি মন্দিরের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি উল্টো অভিযোগ করে বলেন, তৈল মোহন আগেই তাঁর জমিতে অবৈধভাবে ছয়টি গাছ পুঁতে রেখেছিলেন। জাকের, শাহীন, হাসেন ও জাফরসহ একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁদের সামাজিকভাবে হেয় করতে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।
রঞ্জিত কুমারের ছেলে বিশ্বনাথ বর্মন বলেন, ‘আমরা কোনো হামলা বা গাছ কাটার সঙ্গে যুক্ত নই। বরং প্রতিপক্ষের নানা ভয়ভীতি ও বাধার কারণে আমরা এখন নিজ বাড়িতেই অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছি।’
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তৈল মোহন জীবনের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়ে রুহিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানানো হয়েছে, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ ও হামলার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
kalprakash.com/IM