সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। একসময় চার ধাপে পদোন্নতির সুযোগ থাকলেও বর্তমানে তা কার্যত একটিতে নেমে এসেছে। ফলে সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দিয়ে ২৫ থেকে ৩৫ বছর চাকরি করেও একই পদে অবসর নিতে হচ্ছে অনেক শিক্ষককে।
এতে শিক্ষকদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। পাশাপাশি পদোন্নতির সীমিত সুযোগের কারণে মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করাও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা।
তাঁদের মতে, বেতন-ভাতা ও সামাজিক মর্যাদার তুলনায় পদোন্নতির সুযোগ সীমিত হওয়ায় শিক্ষকতা ধীরে ধীরে আকর্ষণ হারাচ্ছে। শুধু সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় নয়, শিক্ষা ক্যাডারেও দীর্ঘদিন ধরে একই সমস্যা রয়েছে। অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা নিয়মিত পদোন্নতি পেলেও শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতির জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আগে সহকারী শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক ও উপপরিচালক—এই চার ধাপে পদোন্নতির সুযোগ ছিল। তবে ২০২১ সালে পদোন্নতির কাঠামো পরিবর্তন করে সহকারী শিক্ষক ও নবম গ্রেডের সিনিয়র শিক্ষক—এই দুই স্তরে নামিয়ে আনা হয়। ফলে সহকারী শিক্ষক থেকে পরবর্তী পদে যাওয়ার সুযোগ আরও সীমিত হয়ে পড়ে।
ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের সহকারী শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল নাহিয়ান বলেন, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্যতম বড় সমস্যা পদসোপানের অভাব। অনেক শিক্ষক সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দিয়ে ওই পদেই অবসর নিচ্ছেন। পাশাপাশি শিক্ষকসংকটের কারণে কর্মরত শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপও রয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) গত ২৫ মার্চের হিসাব অনুযায়ী, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের পদ রয়েছে প্রায় ১৬ হাজার। এর মধ্যে প্রায় সাত হাজার পদই শূন্য।
শিক্ষকসংকটের কারণে কর্মরত শিক্ষকদের ওপর বাড়তি দায়িত্ব পড়ছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
শুধু মাধ্যমিক পর্যায়েই নয়, প্রাথমিক শিক্ষাতেও পদোন্নতির সুযোগ সীমিত। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক—মূলত এটিই প্রধান পদোন্নতির ধাপ। শিক্ষক নেতাদের দাবি, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়মিত পদোন্নতি বন্ধ থাকায় প্রায় ৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অর্ধেকেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।
অন্যদিকে শিক্ষা ক্যাডারেও পদোন্নতি নিয়ে জটিলতা রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষকদের পদোন্নতি হয়েছে মাত্র একবার—২০২৫ সালে। এর বিপরীতে প্রশাসনসহ অন্যান্য ক্যাডারে ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত নিয়মিতভাবে ষষ্ঠ গ্রেডে পদোন্নতি হয়েছে।
শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন ও পদোন্নতির সুযোগ বাড়ানো না গেলে দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষকতা পেশার প্রতি মেধাবীদের আগ্রহ কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষকসংকট মোকাবিলায় নিয়োগের পাশাপাশি বিদ্যমান শিক্ষকদের জন্য সুস্পষ্ট ও কার্যকর পদসোপান তৈরি করাও জরুরি।
kalprakash.com/IM