জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জামায়াতের এমপি ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম (আরমান) ফ্যাসিবাদী আমলে গুমের শিকার হওয়ার ভীতি ও কষ্টের কথা আবেগঘন ভাষণে তুলে ধরেছেন। রোববার (৫ এপ্রিল) সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি কেঁদে ফেলেন।
আরমান বলেন, “আমি আজ এখানে দাঁড়িয়ে আছি এক অন্ধকার ঘর থেকে ফিরে এসে। আমার মতো শতশত লোককে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, কিন্তু অনেকেই ফিরে আসেনি। আমরা সেই অন্ধকার ঘরে মৃত্যুর প্রহর গুনছিলাম। মনে হতো আমাদের আজই হত্যা করা হবে। জীবন্ত কবর দেওয়া হবে, মৃত্যু এই পরিস্থিতির চেয়ে হাজার গুণ ভালো মনে হতো।”
তিনি আরও বলেন, “একদিন দেখি আমাকে টেনেহেঁচড়ে বের করছে। আমি ধরে নিয়েছিলাম এখনই হত্যা হবে। সুরা ইয়াসিন পড়তে শুরু করি যেন মৃত্যুটা সহজ হয়। পরে জানতে পারি কিছু বাচ্চা জীবন দিয়ে, চোখ-পা হারিয়ে ফ্যাসিবাদকে বিতাড়িত করেছে, আর আমরা আবার দুনিয়ার আলো দেখেছি।”
আরমান সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন, গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ আইন এবং মানবাধিকার কমিশন আইন বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। যারা গুমের শিকার, তারা নিজেই এসব বাতিলের সুপারিশ করতে পারে কীভাবে?
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান ফ্লোর গ্রহণ করে জানান, গুমকারীদের বিচারে আরও কঠোর আইন আনা হবে। তিনি বলেন, “গুম আইনে ১০ বছর পর্যন্ত সাজার বিধান থাকলেও আইসিটি অ্যাক্টে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবস্থা আছে। আমরা সংসদে আরও সুনির্দিষ্টভাবে বিল আনব যাতে অপরাধীরা কোনোভাবেই ছাড়তে না পারে। গুম আইনের সাজার সঙ্গে আইসিটি অ্যাক্টের কোনো সংঘর্ষ থাকবে না তা যাচাই করা হবে।”
সংসদে এই আলোচনায় গুমের ভুক্তভোগীদের কষ্ট ও আইনি ব্যবস্থা দৃঢ় করার বিষয়ে গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
kalprakash.com/SS
নিজস্ব প্রতিবেদক 

























