রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬ | ১৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২১ রবিউস সানী, ১৪৪৮ | রাত ৮:৪৯:৩৩
শিরোনাম
● প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ● তেজগাঁও কলেজ সরকারি করার দাবিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে স্মারকলিপি ● যানবাহনের গ্যাসের দাম বাড়াল বিইআরসি ● হাসপাতালে শৃঙ্খলা ফেরাতে মাঠে ৫৪ কর্মকর্তা ● কূটনীতিক বহিষ্কারের মার্কিন দাবি নাকচ আরাঘচির ● সিনাইয়ে গাজার ৪০০ শিশুর স্কুল গড়লেন ফিলিস্তিনি শিক্ষক ● ২০ টাকার আলু ১৪ টাকায় ● এআই প্রযুক্তি ব্যবহারকারী ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ তদারকিতে কিম ● ইন্দোনেশিয়ায় ২ গণ্ডারের গর্ভধারণে বিপন্ন প্রজাতি রক্ষায় নতুন আশার আলো ● সাত শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ খুলবে না ইরান ● প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ● তেজগাঁও কলেজ সরকারি করার দাবিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে স্মারকলিপি ● যানবাহনের গ্যাসের দাম বাড়াল বিইআরসি ● হাসপাতালে শৃঙ্খলা ফেরাতে মাঠে ৫৪ কর্মকর্তা ● কূটনীতিক বহিষ্কারের মার্কিন দাবি নাকচ আরাঘচির ● সিনাইয়ে গাজার ৪০০ শিশুর স্কুল গড়লেন ফিলিস্তিনি শিক্ষক ● ২০ টাকার আলু ১৪ টাকায় ● এআই প্রযুক্তি ব্যবহারকারী ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ তদারকিতে কিম ● ইন্দোনেশিয়ায় ২ গণ্ডারের গর্ভধারণে বিপন্ন প্রজাতি রক্ষায় নতুন আশার আলো ● সাত শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ খুলবে না ইরান

মিঠাপুকুরে গাছের ডালে ঝুলন্ত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

মো. রাখিবুল হাসান রাখিব, মিঠাপুকুর প্রতিনিধি
মো. রাখিবুল হাসান রাখিব, মিঠাপুকুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৭
শেয়ার: mail
মিঠাপুকুরে গাছের ডালে ঝুলন্ত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

রংপুরের মিঠাপুকুরে ময়েনপুর ইউনিয়নের গাছুয়াপাড়া গ্রাম থেকে ফিরোজ মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে মিঠাপুকুর থানা-পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে স্থানীয় একটি বাগান থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফিরোজ মিয়া ওই গ্রামের মৃত আফসার উদ্দিনের ছেলে। গত রাতে খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি আর বাড়িতে ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা রাতভর তাঁর কোনো খোঁজ পাননি।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মৃত আফসার উদ্দিনের চার ছেলে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন অনেক আগেই মারা গেছেন। এক ছেলে ঢাকায় বসবাস করেন। বড় ছেলে ফরহাদ মিয়া (৫০) ও ছোট ছেলে ফিরোজ মিয়া (৪০) এলাকায় বসবাস করতেন। প্রায় ১০-১২ বছর আগে দাম্পত্য কলহের কারণে ফিরোজের স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তাঁদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সরোয়ার হোসেন জানান, প্রতিদিনের মতো ফজরের নামাজ শেষে তিনি বাড়ির আশপাশে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এ সময় একটি বাগানের মধ্যে ফিরোজকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তিনি এগিয়ে যান। কাছে গিয়ে দেখতে পান, একটি গাছের ডালের সঙ্গে রশি দিয়ে তাঁর গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় মরদেহ ঝুলছে। তিনি চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে সবাই মিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, মরদেহের পা মাটির সঙ্গে লাগানো অবস্থায় আছে এবং পায়ে রক্তক্ষরণের চিহ্ন রয়েছে। এসব দেখে সরোয়ার হোসেনের কাছে ঘটনাটি স্বাভাবিক আত্মহত্যা বলে মনে হয়নি। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

ফিরোজের মা ছালেহা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তাঁর ছেলে গত রাতে খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি। সকালে মানুষের মুখে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। এ দৃশ্য দেখে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাঁর অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁর ছেলেকে হত্যা করে গাছের ডালের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি জানান।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ফিরোজ মিয়া শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। তাঁর কারও সঙ্গে বড় ধরনের কোনো বিরোধের কথা তাঁরা জানেন না। তিনি নিয়মিত বাতাসন হাটবাজারে যাতায়াত করতেন। ঘটনার আগের রাতেও তাঁকে স্থানীয় বাতাসন হাটবাজারের একটি চায়ের দোকানে দেখা গেছে বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের কেউ কেউ মরদেহের অবস্থান ও পায়ে রক্তক্ষরণের বিষয়টি উল্লেখ করে ঘটনাটিকে সন্দেহজনক বলে দাবি করেছেন। পাশাপাশি এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের উৎপাত বেড়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। তাঁদের ধারণা, মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো কর্মকাণ্ডে ফিরোজ বাধা দিয়ে থাকলে তার জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল আমিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে ফিরোজ মিয়ার মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা নির্ধারণে ময়নাতদন্ত ও পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন এখন গুরুত্বপূর্ণ। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

মিঠাপুকুরে গাছের ডালে ঝুলন্ত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

বিস্তারিত কমেন্টে