বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে মঙ্গলবার সামান্য উত্থান দেখা গেলেও সাত সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন দামের কাছাকাছিই রয়েছে মূল্যবান এই ধাতু। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও কিছুদিন উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে—এমন আশঙ্কায় স্বর্ণের বাজারে চাপ অব্যাহত রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) বিকেল ৪টা ৭ মিনিটে স্পট স্বর্ণের দাম দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩০ দশমিক ৫৮ ডলারে উঠেছে। এর আগে সোমবার স্বর্ণের দাম গত ৫ আগস্টের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ভবিষ্যৎ সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার চুক্তির দাম দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৬২ দশমিক ২০ ডলারে নেমেছে।
বাজার বিশ্লেষক ক্রিস্টোফার তাহির বলেন, স্বর্ণের দামের ওপর ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির বড় প্রভাব রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লে তেল ও সুদের হার আরও বাড়তে পারে। এতে স্বর্ণের ওপর চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে পরিস্থিতির উত্তেজনা কমলে স্বর্ণের ওপর চাপও কমতে পারে।
এদিকে সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করেছেন বলে দুই দেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে টানা দ্বিতীয় কার্যদিবসের মতো তেলের দামও বেড়েছে।
তেলের দাম বাড়লে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বাড়ে। এর প্রভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়াতে পারে বা উচ্চ পর্যায়ে ধরে রাখতে পারে। সুদের হার বাড়লে স্বর্ণে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যায়। কারণ, স্বর্ণ থেকে কোনো সুদ পাওয়া যায় না। ফলে সুদনির্ভর সম্পদ তুলনামূলক আকর্ষণীয় হয়ে উঠলে স্বর্ণের বাজারে চাপ তৈরি হয়।
সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের বৈঠকে ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনা এখন ৭২ দশমিক ৫ শতাংশ। এক সপ্তাহ আগেও এই সম্ভাবনা ছিল ৫৭ দশমিক ৬ শতাংশ।
ফেডের গভর্নর লিসা কুক বলেছেন, আগামী কয়েক মাসেও মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বাড়তি চাহিদা এবং তেলের উচ্চ দাম এর অন্যতম কারণ হতে পারে। তবে আরও সুদের হার বাড়ানো প্রয়োজন হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা আস্থা, চাকরির শূন্য পদ, বেসরকারি খাতের কর্মসংস্থান, ব্যক্তিগত ভোগব্যয় এবং কৃষিখাতের বাইরে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। এসব অর্থনৈতিক তথ্যের দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। কারণ, মূল্যস্ফীতি ও শ্রমবাজারের পরিস্থিতি ফেডের ভবিষ্যৎ সুদের হার নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
বাজার বিশ্লেষক তাহিরের মতে, মূল্যস্ফীতি তুলনামূলক বেশি থাকা এবং অর্থনীতি শক্তিশালী থাকার পরিস্থিতিতে ফেড সুদের হার আরও কিছুদিন উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে। এতে স্বর্ণের দাম আরও কমার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মঙ্গলবার দুর্বলতা দেখা গেছে। রুপার দাম দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ৪২ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৯৭ দশমিক ৭১ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ২০৫ দশমিক ২৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
kalprakash.com/IM