গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে একটি কুকুরের হামলায় শিশুসহ আটজন আহত হয়েছেন। একই সময়ে দুটি গরু ও চারটি ছাগলকেও কামড়েছে কুকুরটি। পরে আতঙ্কিত এলাকাবাসী কুকুরটিকে ধরে মেরে ফেলেন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের জামাল, দেওডোবা ও মনিরাম গ্রামে পৃথক সময়ে এসব ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—জামাল গ্রামের মৃত জয়ন উদ্দিনের ছেলে আব্দুল হান্নান (৫০), তোফাজ্জল হোসেন (৭০), মৃত রয়েজ উদ্দিনের ছেলে ছবির মিয়া (৫৫); দেওডোবা গ্রামের হাফিজুরের ছেলে শিশু সোহাগ মিয়া (৪) ও মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে আতোয়ার রহমান (৫০); মনিরাম গ্রামের সফিয়াল মিয়ার ছেলে জহুরুল ইসলাম (২৫) ও মৃত মোজাহারের ছেলে রুবেল মিয়া (৩০) এবং পাশের রংপুরের পীরগাছা উপজেলার মকরমপুর গ্রামের মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে হাসান আলী (৬০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ৮টার দিকে ইছলার বাজারের নৈশপ্রহরী হাসান আলী ডিউটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে কুকুরটির হামলার শিকার হন। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর জামাল গ্রামে ঢুকে একে একে চারজনকে কামড়ে আহত করে কুকুরটি।
আহত আব্দুল হান্নানের গলায়, তোফাজ্জল হোসেনের দুই হাতে, ছবির মিয়ার শরীরে এবং শিশু সোহাগ মিয়ার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ের আঘাত রয়েছে। পরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মনিরাম গ্রামের গাজীর মোড় এলাকায় আরও তিনজনকে কামড়ায় কুকুরটি। তাদের মধ্যে আতোয়ার রহমানের মুখ ও পায়ে, জহুরুল ইসলামের বাঁ হাতে এবং রুবেল মিয়ার ডান হাতে কামড়ের আঘাত রয়েছে।
জামাল গ্রামের আহত চারজন পার্শ্ববর্তী পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফেরার পর তাদের রংপুরে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মনিরাম ও দেওডোবা গ্রামের আহতরা সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, মানুষের ওপর হামলার পাশাপাশি কুকুরটি দুটি গরু ও চারটি ছাগলকেও কামড়ায়। পরে কুকুরটি বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করতে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে এলাকাবাসী কুকুরটিকে ধরে মেরে ফেলেন।
বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল জব্বার বলেন, কুকুরের কামড়ে শিশুসহ আটজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন পার্শ্ববর্তী পীরগাছা উপজেলার মকরমপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের লোকজন কাজ করছেন।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল হাসান বলেন, কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে আসা চারজনকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি ভ্যাকসিনও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ মাহমুদুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
kalprakash.com/IM