মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ | ২০ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৩ রবিউস সানী, ১৪৪৮ | রাত ১১:২৯:১১
শিরোনাম
● স্কুল থেকে ফিরে হাত-মুখ ধুতে গিয়ে প্রাণ গেল শিশুর ● শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন বান্দরবানে ● এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনছে সরকার, চুক্তি বুধবার ● বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের আভাস, আগামী ৫ দিন যেমন থাকবে আবহাওয়া ● টিকটক ব্যবহারকারীদের জন্য বড় সুখবর, নতুন ফিচারে আসছে চমক ● লিংকডইনে চীনের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ● আজ নীল-সাদা জার্সিতে শেষবার মাঠে নামছেন মেসি ● ভিসাপ্রার্থীদের জন্য মার্কিন দূতাবাসের জরুরি বার্তা ● সর্বজনীন পেনশন ভবিষ্যৎ নিরাপদ করার দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সুরক্ষা ● ডিসেম্বরের মধ্যে পুরোপুরি ডিজিটাল হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম ● স্কুল থেকে ফিরে হাত-মুখ ধুতে গিয়ে প্রাণ গেল শিশুর ● শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন বান্দরবানে ● এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনছে সরকার, চুক্তি বুধবার ● বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের আভাস, আগামী ৫ দিন যেমন থাকবে আবহাওয়া ● টিকটক ব্যবহারকারীদের জন্য বড় সুখবর, নতুন ফিচারে আসছে চমক ● লিংকডইনে চীনের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ● আজ নীল-সাদা জার্সিতে শেষবার মাঠে নামছেন মেসি ● ভিসাপ্রার্থীদের জন্য মার্কিন দূতাবাসের জরুরি বার্তা ● সর্বজনীন পেনশন ভবিষ্যৎ নিরাপদ করার দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সুরক্ষা ● ডিসেম্বরের মধ্যে পুরোপুরি ডিজিটাল হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম

চীনা সামরিক নেতৃত্বে শুদ্ধি অভিযান: যুদ্ধপ্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২০
শেয়ার: mail
চীনা সামরিক নেতৃত্বে শুদ্ধি অভিযান: যুদ্ধপ্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন

চীনের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের ধারাবাহিকভাবে বরখাস্ত ও অপসারণের ঘটনায় দেশটির যুদ্ধপ্রস্তুতি ও জটিল সামরিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে কূটনীতিক ও বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, এই শুদ্ধি অভিযানের ফলে প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সামরিক বাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হয়েছে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন যখন সামরিক বাহিনী আধুনিকীকরণ এবং তাইওয়ানসহ দক্ষিণ ও পূর্ব চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ এলাকায় সামরিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে, তখন শীর্ষ পর্যায়ে এই ব্যাপক রদবদল আঞ্চলিক সামরিক কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের নজরে এসেছে।

সর্বশেষ চলতি সপ্তাহে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরো দেশটির সামরিক বাহিনীর দুই শীর্ষ কর্মকর্তা ঝাং ইউশিয়া ও লিউ ঝেনলিকে দল ও সামরিক বাহিনী থেকে বহিষ্কারের অনুমোদন দিয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও রাজনৈতিকভাবে অবিশ্বস্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে। জানুয়ারিতে তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

ঝাং ইউশিয়া ছিলেন সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের (সিএমসি) ভাইস চেয়ারম্যান এবং শি চিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগী হিসেবে পরিচিত। চীনের সর্বোচ্চ সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী এই কমিশনের সদস্য ছিলেন লিউ ঝেনলিও।

শির নিয়ন্ত্রণ আরও জোরালো হওয়ার দাবি

সিঙ্গাপুরভিত্তিক চীনবিষয়ক নিরাপত্তা গবেষক জেমস চার মনে করেন, ঝাং ইউশিয়া ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মিয়াও হুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়ার ফলে সামরিক বাহিনীর ওপর শি চিনপিংয়ের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হয়েছে।

তাঁর মতে, পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ক্ষমতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ফলে সামরিক বাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা শি চিনপিংয়ের রাজনৈতিক কর্তৃত্বের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

২০১২ সালে ক্ষমতায় আসার পর শি চিনপিং দুর্নীতি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করেন। এর আওতায় দল, সরকার ও সামরিক বাহিনীর বহু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তদন্ত ও শাস্তির মুখে পড়েছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পিএলএর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও এই অভিযানের বড় লক্ষ্য হয়েছেন।

চীনের কর্মকর্তারা অবশ্য সামরিক বাহিনীতে দলীয় নেতৃত্বকে দুর্বল করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। তাঁদের বক্তব্য, সামরিক বাহিনীর ওপর কমিউনিস্ট পার্টির চূড়ান্ত নেতৃত্বই চীনের সামরিক ব্যবস্থার মৌলিক নীতি।

যুদ্ধ সক্ষমতা নিয়ে কেন প্রশ্ন

শীর্ষ পর্যায়ের এত কর্মকর্তাকে একসঙ্গে সরিয়ে দেওয়ার ফলে চীনের সামরিক বাহিনীর স্বাভাবিক কার্যক্রম পুরোপুরি থেমে যায়নি। অস্ত্র পরীক্ষা ও সামরিক মহড়াও অব্যাহত রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, নেতৃত্বের এই অস্থিরতা দীর্ঘমেয়াদি বা জটিল কোনো সামরিক অভিযানে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষ করে তাইওয়ানকে ঘিরে সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের ক্ষেত্রে কমান্ড কাঠামো ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর এই পরিবর্তনের প্রভাব কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে। অন্যদিকে তাইওয়ান বেইজিংয়ের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করে।

ঝাং ইউশিয়া ছিলেন বর্তমান চীনা সামরিক নেতৃত্বের অল্প কয়েকজন কর্মকর্তার একজন, যাঁর বাস্তব যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ছিল। ১৯৭৯ সালে ভিয়েতনামের সঙ্গে চীনের যুদ্ধে তিনি অংশ নিয়েছিলেন। ফলে তাঁকে সরিয়ে দেওয়াকে সামরিক নেতৃত্বে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

টনি ব্লেয়ার ইনস্টিটিউটের চীনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ নীতি উপদেষ্টা রুবি ওসমানের মতে, পিএলএর দৈনন্দিন কার্যক্রম এই অস্থিরতার মধ্যেও সচল থাকলেও এত বড় ধরনের নেতৃত্ব পরিবর্তন জটিল সামরিক অভিযানে সমস্যা তৈরি করতে পারে।

শীর্ষ পদগুলো এখনো ফাঁকা

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দ্বিতীয় সারির কয়েকজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও সিএমসির সাত সদস্যের কাঠামোর বেশ কয়েকটি পদ এখনো খালি রয়েছে। আগস্টে ঝাং ও লিউকে সিএমসি থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর কমিশনে সক্রিয় সদস্যের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

বিশ্লেষক জেমস চার মনে করেন, ২০২৭ সালের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় কমিউনিস্ট পার্টির পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ কংগ্রেসের আগে সিএমসির শীর্ষ পর্যায়ের শূন্য পদগুলো পূরণ নাও হতে পারে। এই পদগুলো দীর্ঘদিন খালি থাকলে চীন ও অন্যান্য দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ ও সংলাপেও প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন।

চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডং জুন অবশ্য তাঁর পদে বহাল রয়েছেন। তবে তিনি পলিটব্যুরো বা সিএমসির সদস্য নন। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অন্যান্য দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের তুলনায় তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত বলে বিশ্লেষকেরা উল্লেখ করেছেন।

সব মিলিয়ে চীনের সামরিক বাহিনীতে চলমান শুদ্ধি অভিযান একদিকে নেতৃত্ব কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে, অন্যদিকে পিএলএর যুদ্ধপ্রস্তুতি ও কমান্ড সক্ষমতার ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

চীনা সামরিক নেতৃত্বে শুদ্ধি অভিযান: যুদ্ধপ্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন

বিস্তারিত কমেন্টে