সম্পর্কের সাময়িক টানাপড়েন কাটিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফরকে ঘিরে ফের গতি পেয়েছে ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক তৎপরতা। সফরটি বাস্তবায়নে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা আবারও শুরু হয়েছে বলে ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন করে অসন্তোষ তৈরি হয়। এর পরও দুই দেশের কর্মকর্তারা নিয়মিত বৈঠক ও যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।
সম্ভাব্য সফরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য স্বাভাবিক করা এবং গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা নবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় আসতে পারে। ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তিটির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
চলতি মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর অক্টোবর ও নভেম্বরজুড়ে তার একাধিক কূটনৈতিক ব্যস্ততা রয়েছে। এর মধ্যে নভেম্বরে সুবিধাজনক সময়ে তার নয়াদিল্লি সফর আয়োজনের চেষ্টা চলছে বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি পানি সম্পদমন্ত্রী শাহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে দুই দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গে বৈঠক করেন ত্রিবেদী। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
এর আগে সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হলেও বাংলাদেশ কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর জানিয়েছিলেন, আমন্ত্রণটি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর দ্বিপক্ষীয় সফর হওয়া উচিত।
ঢাকা জানিয়েছে, পারস্পরিক সম্মান ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত হওয়ার পরই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হবে। ১০ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর বলেন, অনুকূল পরিবেশ ও পারস্পরিক সম্মান বজায় থাকলে দ্বিপক্ষীয় সফর হবে এবং এ বিষয়ে তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৫ সালের নভেম্বরে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তিনি রায়কে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লন্ডনে অবস্থানকাল থেকেই ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন তারেক রহমান। ২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফেব্রুয়ারিতে তিনি একজন প্রতিনিধিকে ভারতে পাঠিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনের দুই মাস আগে বর্তমান জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুও নয়াদিল্লি সফর করেছিলেন। দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতি ভারতের দ্ব্যর্থহীন সমর্থন চেয়েছিলেন।
এর আগে ২০১৮ সালের জুনে বিএনপির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নয়াদিল্লি সফর করেছিল। দলে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর। তারা ভারতের কয়েকটি থিংকট্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করেন।
kalprakash.com/IM