মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ | ২০ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৩ রবিউস সানী, ১৪৪৮ | রাত ৮:৫৪:১৩
শিরোনাম
● স্কুল থেকে ফিরে হাত-মুখ ধুতে গিয়ে প্রাণ গেল শিশুর ● শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন বান্দরবানে ● এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনছে সরকার, চুক্তি বুধবার ● বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের আভাস, আগামী ৫ দিন যেমন থাকবে আবহাওয়া ● টিকটক ব্যবহারকারীদের জন্য বড় সুখবর, নতুন ফিচারে আসছে চমক ● লিংকডইনে চীনের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ● আজ নীল-সাদা জার্সিতে শেষবার মাঠে নামছেন মেসি ● ভিসাপ্রার্থীদের জন্য মার্কিন দূতাবাসের জরুরি বার্তা ● সর্বজনীন পেনশন ভবিষ্যৎ নিরাপদ করার দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সুরক্ষা ● ডিসেম্বরের মধ্যে পুরোপুরি ডিজিটাল হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম ● স্কুল থেকে ফিরে হাত-মুখ ধুতে গিয়ে প্রাণ গেল শিশুর ● শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন বান্দরবানে ● এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনছে সরকার, চুক্তি বুধবার ● বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের আভাস, আগামী ৫ দিন যেমন থাকবে আবহাওয়া ● টিকটক ব্যবহারকারীদের জন্য বড় সুখবর, নতুন ফিচারে আসছে চমক ● লিংকডইনে চীনের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ● আজ নীল-সাদা জার্সিতে শেষবার মাঠে নামছেন মেসি ● ভিসাপ্রার্থীদের জন্য মার্কিন দূতাবাসের জরুরি বার্তা ● সর্বজনীন পেনশন ভবিষ্যৎ নিরাপদ করার দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সুরক্ষা ● ডিসেম্বরের মধ্যে পুরোপুরি ডিজিটাল হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম

জিন্নাহ চরিত্রে শুটিংয়ের সময় কেন কেঁদেছিলেন হলিউড অভিনেতা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৪
শেয়ার: mail
জিন্নাহ চরিত্রে শুটিংয়ের সময় কেন কেঁদেছিলেন হলিউড অভিনেতা

টেলিভিশন ও মঞ্চে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর চরিত্রে অনেক অভিনেতাই অভিনয় করেছেন। তবে হলিউড অভিনেতা ক্রিস্টোফার লি ‘জিন্নাহ’ ছবিতে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতার যে চরিত্রায়ণ করেছেন, তা একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

১৯৯৮ সালে মুক্তি পাওয়া পাকিস্তান ও যুক্তরাজ্যের যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র ‘জিন্নাহ’ পরিচালনা করেন জামিল দেহলভি। চিত্রনাট্য লিখেছেন জামিল দেহলভি ও ড. আকবর এস. আহমেদ। ছবিটির প্রযোজকও ছিলেন ড. আকবর এস. আহমেদ।

‘ড্রাকুলা’ সিরিজের প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি পাওয়া এবং জেমস বন্ডের ছবি ‘দ্য ম্যান উইথ দ্য গোল্ডেন গান’-এ স্কারামাঙ্গা চরিত্রে অভিনয় করা ক্রিস্টোফার লিকে জিন্নাহর চরিত্রে নির্বাচন করাটিও ছিল এক চমকপ্রদ ঘটনা।

ক্রিস্টোফার লি কীভাবে জিন্নাহর চরিত্র পেলেন?

ক্রিস্টোফার লি তার আত্মজীবনী ‘লর্ড অব মিসরুল’-এ লিখেছেন, ১৯৯৭ সালে লন্ডনে পাকিস্তানের ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি নৈশভোজে ড. আকবর আহমেদ ও জামিল দেহলভি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ সম্পর্কে তিনি কী জানেন।

লি উত্তর দিয়েছিলেন, জিন্নাহ ‘পাকিস্তান’ নামে একটি নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং তাঁর কাছে তিনি অসাধারণ দৃঢ়সংকল্প ও মেধার অধিকারী একজন ব্যক্তি বলে মনে হন।

এরপর তাঁকে বলা হয়েছিল, ‘আমরা চাই আপনি জিন্নাহর চরিত্রে অভিনয় করুন।’

প্রস্তাবটি লির কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল। তবে পরে তিনি ধারণা করেন, জিন্নাহর উচ্চতা ও শারীরিক গঠনের সঙ্গে তাঁর কিছুটা মিল থাকাও তাঁকে নির্বাচনের অন্যতম কারণ হতে পারে।

চরিত্রের প্রস্তুতি ও চিত্রনাট্যে পরিবর্তন

চরিত্রটি গ্রহণ করার পর লি জিন্নাহর জীবন ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে বিভিন্ন উপকরণ পড়াশোনা করেন এবং বেশ কয়েকটি বই পড়েন।

চিত্রনাট্যে একাধিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গে তিনি তাঁর বইয়ে লিখেছেন, ‘ছবির শুটিং যত এগোচ্ছিল, চিত্রনাট্য থেকে ততই এমন দৃশ্য বাদ দেওয়া হচ্ছিল, যেগুলো অতিরিক্ত মনে হচ্ছিল।’

ছবিটির শুরুতে ‘লিম্বো’তে জিন্নাহকে একজন ফেরেশতার সামনে তাঁর জীবনের হিসাব দিতে দেখানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ইসলামি বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকায় সেটি পরিবর্তন করে একটি কাল্পনিক স্বর্গীয় গ্রন্থাগারের ধারণা আনা হয়। সেখানে জিন্নাহর জীবনের নথি খোঁজা হয়।

এই গ্রন্থাগারের তত্ত্বাবধায়কের চরিত্রে অভিনয় করেন ভারতীয় অভিনেতা শশী কাপুর। তিনি জিন্নাহকে তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো আবার দেখান—যে ঘটনাগুলোর মধ্য দিয়ে একজন সাধারণ নেতা ধীরে ধীরে ‘কায়েদে আজম’-এ পরিণত হন।

করাচিতে ক্রিস্টোফার লি

ছবিটির শুটিংয়ের জন্য ক্রিস্টোফার লি প্রায় ১০ সপ্তাহ করাচির একটি বিখ্যাত হোটেলে অবস্থান করেন। একবার তাঁর পিঠে ব্যথা হলে তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

লির ভাষ্য অনুযায়ী, করাচিতে পৌঁছানোর প্রথম দিনই হোটেলের কর্মীরা জেনে গিয়েছিলেন তিনি কে এবং কোন চরিত্রে অভিনয় করতে এসেছেন। পরদিনের মধ্যেই সংবাদপত্রের মাধ্যমে পুরো শহরেও খবরটি ছড়িয়ে পড়ে।

পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ফারুক আহমদ খান লেঘারি তাঁকে জিন্নাহর চরিত্রে অভিনয়ের জন্য স্বাগত জানিয়ে একটি চিঠিও পাঠিয়েছিলেন। তবে একই সময়ে সংবাদপত্রগুলোতে তাঁকে এই চরিত্রে নির্বাচনের সমালোচনাও শুরু হয়।

লি লিখেছেন, এই সফরে তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে ক্রিস্টিনাও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। কঠোর নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও তাঁর স্ত্রী করাচির বাজারে ঘুরে বেড়াতে সক্ষম হয়েছিলেন। কিন্তু লি ও তাঁর মেয়ে গাইডবুকে বর্ণিত উপায়ে করাচি ঘুরে দেখতে পারেননি।

‘ড্রাকুলা কীভাবে জিন্নাহ হতে পারে?’

লি তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন, কিছু পাকিস্তানি সংবাদপত্র মেনে নিতে পারেনি যে একজন পশ্চিমা ও খ্রিস্টান অভিনেতা—যিনি ড্রাকুলা এবং অন্যান্য নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করেছেন—তিনি পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতার চরিত্রে অভিনয় করবেন।

লির বক্তব্য ছিল, একজন অভিনেতা তাঁর অভিনীত চরিত্রের সঙ্গে একজন ব্যক্তি হিসেবে এক নন। একজন অভিনেতা বিভিন্ন ছবিতে বিভিন্ন ব্যক্তিত্বের চরিত্রে অভিনয় করতে পারেন। তাই অতীতে অভিনয় করা চরিত্রগুলোকে জিন্নাহর চরিত্রায়ণের বিরুদ্ধে যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়।

তিনি বিশেষভাবে ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য নিউজ’-এর একজন সম্পাদকের কথাও উল্লেখ করেছেন, যিনি নিজেও জিন্নাহর চরিত্রের জন্য অডিশন দিয়েছিলেন। লির মতে, ওই ব্যক্তির উচ্চতা ও শারীরিক গঠন এই চরিত্রের জন্য উপযুক্ত ছিল না এবং তাঁর অভিনয়ের অভিজ্ঞতাও ছিল না।

একই সংবাদপত্রে একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সম্পাদকের কাছে চিঠি লিখে ক্রিস্টোফার লিকে দেশ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান। এমনকি একটি হাস্যকর দাবিও করা হয়েছিল যে ছবিটির চিত্রনাট্য সালমান রুশদি লিখেছেন।

শুটিংয়ের সমস্যা

লির মতে, ছবিটির সমস্যাগুলো শুধু নিরাপত্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রায় ১৫ সদস্যের একটি ছোট দলকে বিপুলসংখ্যক স্থানীয় অতিরিক্ত শিল্পীর সঙ্গে কাজ করতে হয়েছিল। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে শুটিং চলত। প্রযোজনা ও যোগাযোগব্যবস্থাতেও বিভিন্ন সমস্যা ছিল।

তিনি পরিচালক জামিল দেহলভির কাজের ধরন নিয়েও সমালোচনা করেন।

লির মতে, কিছু ক্ষেত্রে দেহলভি সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করতেন। অন্যদিকে তিনি চিত্রগ্রাহক নিক নোল্যান্ডের কাজের প্রশংসা করেন।

ছবিটির অর্থায়ন প্রসঙ্গে লি বলেন, শুটিং চলাকালে সরকার পরিবর্তনের কারণে ছবিটির অর্থায়নে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। পরে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার পর শুটিং শেষ করা সম্ভব হয়।

জিন্নাহর কণ্ঠ ও চলনভঙ্গি

ক্রিস্টোফার লি জিন্নাহর পুরোনো চলচ্চিত্রের ফুটেজ ও রেডিও রেকর্ডিং শুনে তাঁর আচরণ ও ভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করেন। তিনি জিন্নাহর হাঁটার ধরন, হাতের অঙ্গভঙ্গি, কথা বলার ভঙ্গি এমনকি তাঁর কাশি পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করেন।

তিনি জিন্নাহর একটি বিখ্যাত ভাষণের দৃশ্য লাহোরের সেই একই স্থানে ধারণ করেন, যেখানে ঐতিহাসিকভাবে ভাষণটি দেওয়া হয়েছিল।

লি জিন্নাহর মাজারেও গিয়েছিলেন। তিনি লিখেছেন, সেদিনই তাঁর কাছে ‘এই চরিত্রের দায়িত্বের প্রকৃত অনুভূতি’ তৈরি হয়েছিল।

ছবিটির ক্লাইম্যাক্সে দেশভাগের সময় একটি শরণার্থী কাফেলার দৃশ্য ধারণ করার সময় লি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দৃশ্যটিতে একটি ছোট মেয়ে তার মাকে হারিয়েছিল। লির মতে, ক্যামেরার সামনে তাঁর চোখ দিয়ে যে অশ্রু গড়িয়ে পড়েছিল, তা ছিল সত্যিকারের।

সহ-অভিনেতা ও উর্দু ডাবিং

ছবিতে শিরীন শাহ ফাতিমা জিন্নাহ, রিচার্ড লিন্টার্ন তরুণ জিন্নাহ, স্যাম দস্তুর গান্ধী, রবার্ট অ্যাশবি নেহরু এবং জেমস ফক্স লর্ড মাউন্টব্যাটেনের চরিত্রে অভিনয় করেন।

ভেনিজা আহমেদ অভিনয় করেন ডিনা জিন্নাহর চরিত্রে এবং শাকিল অভিনয় করেন লিয়াকত আলী খানের চরিত্রে।

জীবনের শেষ দিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা শাকিল ‘জিন্নাহ’ ছবির অংশ হওয়াকে স্মরণীয় অভিজ্ঞতা বলে উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, লিয়াকত আলী খানের চরিত্রটি গ্রহণের আগে তিনি লিয়াকত আলী খানের পরিবারের কাছ থেকেও অনুমতি নিয়েছিলেন।

ছবিটির একটি উর্দু সংস্করণও তৈরি করা হয়। এতে ক্রিস্টোফার লির কণ্ঠের ডাবিং করেন অভিনেতা গোলাম মহিউদ্দিন।

গোলাম মহিউদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি আগে থেকেই কোনোভাবে এই ছবির অংশ হতে চেয়েছিলেন। ইংরেজি প্রযোজনার কাজ শেষ হওয়ার পর করাচি থেকে তাঁকে ফোন করা হয় এবং ডাবিংয়ের জন্য অডিশন নেওয়া হয়। তাঁর রেকর্ড করা কণ্ঠ হলিউডের দলের কাছে পাঠানো হলে সেটি অনুমোদন করা হয়।

তিনি বলেন, রেডিও পাকিস্তান ও ভয়েস অব আমেরিকায় কাজ করার অভিজ্ঞতা এই কাজে তাঁকে সাহায্য করেছিল। কিছু দৃশ্যে কণ্ঠস্বর ও ঠোঁটের নড়াচড়ার মধ্যে সামঞ্জস্য আনার জন্য একাধিকবার মহড়া দিতে হয়েছিল।

গোলাম মহিউদ্দিনের মতে, একবার তিনি প্রায় ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা একটানা ডাবিং করেছিলেন। তিনি এই অভিজ্ঞতাকে নিজের জন্য বড় সাফল্য এবং গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।

আন্তর্জাতিক প্রশংসা, কিন্তু পরিবেশক পাওয়া যায়নি

ছবিটির প্রাথমিক সংস্করণ নিয়ে ক্রিস্টোফার লি পুরোপুরি সন্তুষ্ট ছিলেন না। তবে তাঁর মতে, লন্ডন ও নিউইয়র্কে আরও সম্পাদনা এবং সংগীত সংযোজনের পর ছবিটি আরও উন্নত রূপ পায়।

‘জিন্নাহ’ ছবিটি নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, লন্ডন ও কায়রোর চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয় এবং সেখানে ভালো সমালোচনামূলক প্রতিক্রিয়া পায়। তবে পাকিস্তানের বাইরে ছবিটির জন্য বড় কোনো পরিবেশক পাওয়া যায়নি।

ক্রিস্টোফার লির আত্মজীবনীতে এই ছবির সঙ্গে জড়িত সবচেয়ে স্মরণীয় বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে পাকিস্তানি জনগণের প্রতিক্রিয়া।

তিনি লিখেছেন, স্থানীয় দোকানদার, পুলিশ সদস্য, সেনাসদস্য এবং ছবির অতিরিক্ত শিল্পীরা শেষ পর্যন্ত তাঁকে শুধু একটি শব্দ বলেছিলেন—যে শব্দটি তিনি কখনো ভুলতে পারবেন না।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

জিন্নাহ চরিত্রে শুটিংয়ের সময় কেন কেঁদেছিলেন হলিউড অভিনেতা

বিস্তারিত কমেন্টে