কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ এবং মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে লিফট স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিজ্ঞান অনুষদ, প্রকৌশল অনুষদ এবং প্রশাসনিক ভবনেও লিফট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনটি পৃথক ওয়ার্ক অর্ডারের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ ৫৪ হাজার ৬৫২ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে লিফটের অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৫২ টাকা এবং লিফট ক্রয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা আসছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে এবং অবশিষ্ট অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে।
স্থাপিতব্য লিফট দুটি চীন-জাপানের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ফুজি কোম্পানির সি-টাইপ মডেলের। প্রতিটি লিফটের ধারণক্ষমতা ১ হাজার কেজি, যা সাধারণত একসঙ্গে ১৩ জন যাত্রী বহনে সক্ষম।
আরও জানা গেছে, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ভবনে পাঁচটি এবং মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে মোট ছয়টি স্টপেজ থাকবে। লিফটের বাইরের অবকাঠামো হবে স্টিলের, যা আকর্ষণীয় গ্লাস দিয়ে আবৃত থাকবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করে ডিসেম্বরেই লিফট দুটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।
পাহাড় কেটে ভবনগুলো নির্মাণ করায় এগুলো পাঁচতলা হলেও ওপরের রাস্তা ও সিঁড়ি বেয়ে বিভাগে যেতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বেগ পোহাতে হতো। লিফট চালু হলে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের সেই যাতায়াত ভোগান্তি অনেকটাই লাঘব হবে।
এ বিষয়ে মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী ইসরাত জাকিয়া নিহা বলেন, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে লিফট চালু হলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত অনেক সহজ হবে। উঁচু সিঁড়ি ভেঙে ক্লাসে বা চতুর্থ তলার পরীক্ষা হলে পৌঁছাতে শিক্ষার্থীরা ক্লান্ত হয়ে পড়ে। লিফট চালু হলে ভোগান্তি কমার পাশাপাশি পুরো অনুষদটি আরও আধুনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব হয়ে উঠবে।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় উঁচু তলাগুলোতে প্রতিদিন ওঠানামা করতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মারাত্মক ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিশেষ করে প্রবীণ শিক্ষক এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এ কষ্ট আরও বেড়ে যায়। লিফট চালু হলে সবার চলাচল অনেক সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।
প্রকৌশল দপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এস. এম. শহিদুল হাসান জানান, আপাতত দুটি ভবনে লিফটের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। তিন মাস মেয়াদি এই কাজ আগামী নভেম্বরের মধ্যেই শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে পরবর্তী ভবনগুলোতেও কাজ শুরু করা হবে।
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, উপাচার্য শুরু থেকেই ‘স্টুডেন্ট ফার্স্ট’ নীতিতে বিশ্বাসী এবং সে অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের কল্যাণে একের পর এক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই দ্রুততম সময়ে লিফট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দুটি ভবনে কাজ পুরোদমে চলছে, পর্যায়ক্রমে বাকি ভবনগুলোকেও এই সুবিধার আওতায় আনা হবে।
kalprakash.com/IM