অস্ট্রিয়ায় নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সাথে সাথে ১৪ বছরের কম বয়সী মেয়েদের ক্ষেত্রে স্কুলে হিজাব পরিধান নিষিদ্ধ করে প্রণীত একটি নতুন আইন কার্যকর হয়েছে। দেশটির সব সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে হিজাব কিংবা বোরকার মতো মাথা ঢাকার যেকোনো ধরনের ঐতিহ্যবাহী মুসলিম পোশাক পরার ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির ক্ষমতাসীন জোট সরকার—যাতে মধ্যপন্থী ও রক্ষণশীল দল ওভিপি, এসপিও এবং নিওস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—আইনটি পাস করে। সরকারের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে লিঙ্গ সমতা নিশ্চিতকরণ ও তরুণীদের ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষার প্রয়াস হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
দেশটির সামাজিক সম্প্রীতি বিষয়ক মন্ত্রী ক্লাউডিয়া বাউয়ার হিজাবকে ‘নিপীড়নের প্রতীক’ ও ‘শৈশব থেকেই মেয়েদের নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যম’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে উগ্র-ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ফ্রিডম পার্টি (এফপিও) এই পদক্ষেপকে অপর্যাপ্ত দাবি করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের জন্যই পূর্ণাঙ্গ মুখাবরণ বা পর্দা নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে।
আইনের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষার্থী স্কুলে হিজাব পরে এলে শুরুতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। ধারাবাহিকভাবে এই নির্দেশনা অমান্য করা হলে বিষয়টি স্থানীয় শিশু সুরক্ষা বিভাগকে অবহিত করা হবে। আর চূড়ান্ত ধাপে নিয়মভঙ্গের দায়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের সর্বোচ্চ ৮০০ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ টাকা) পর্যন্ত জরিমানা করার কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।
এদিকে নতুন এই আইনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে অস্ট্রিয়ার আনুষ্ঠানিক ইসলামিক সম্প্রদায়। মুসলিম নেতৃবৃন্দ একে দেশটির নাগরিকদের মৌলিক ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত বলে উল্লেখ করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা প্রদান এবং আইনটির বিরুদ্ধে পুনরায় দেশের সাংবিধানিক আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির মুসলিম সংগঠনগুলো।
এর আগে ২০২০ সালেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই ধরনের হিজাব নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে দেশটির সাংবিধানিক আদালত বাতিল ঘোষণা করে। মুসলিম সংগঠনগুলোর অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপজুড়ে সংখ্যালঘু মুসলিমদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে এ ধরনের বৈষম্যমূলক আইন প্রণয়নের উদ্বেগজনক প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উল্লেখ্য, ফ্রান্সের মতো ইউরোপীয় দেশগুলোতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সব ধরনের প্রকাশ্য ধর্মীয় প্রতীক বহন নিষিদ্ধ হলেও, অস্ট্রিয়ার নতুন আইনটি সুনির্দিষ্টভাবে মুসলিম নারীদের পোশাককে লক্ষ্য করে কার্যকর করা হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
kalprakash.com/IM