মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যে এবার উপসাগরীয় দেশ কুয়েতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে তারা ইরান থেকে ধেয়ে আসা শত্রুভাবাপন্ন একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে সর্বাত্মক তৎপরতা চালাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দেশটির সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
হামলার পর কুয়েত কর্তৃপক্ষ জনসাধারণের প্রতি বিশেষ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা সূত্রের ভাষ্য, কুয়েতের বিভিন্ন এলাকায় যেসব বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে, তা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা ইরানের হামলাকারী লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের কারণে সৃষ্টি হচ্ছে।
এর একদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া যুদ্ধ খুব বেশি দিন স্থায়ী হবে না। বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি মন্তব্য করেন, এ যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হবে বলে তিনি মনে করেন না। একই সঙ্গে ইরান এই চাপ আর কতটা সহ্য করতে পারবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ট্রাম্প।
এর আগে মঙ্গলবার ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন বিমান হামলাকে অত্যন্ত ব্যাপক বলে বর্ণনা করেন ট্রাম্প। যেকোনো মুহূর্তে আরও বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি রয়েছে বলেও কড়া হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তবে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের ওপর পাল্টা আক্রমণ জোরদার করে ইরান; যার অংশ হিসেবে জর্ডান ও বাহরাইনেও আঘাত হানা হয়।
এদিকে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানের সঙ্গে সংঘাত যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সে জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের সহযোগীরা সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চার কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নির্বাচন পর্যন্ত ইরান সংঘাতকে তুলনামূলক নিয়ন্ত্রিত রাখতে চাইছেন। কারণ যুদ্ধ নিয়ে আমেরিকান নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিরোধিতা বাড়তে থাকায় নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির রাজনৈতিক ক্ষতি ঠেকানোই এখন তাঁদের অন্যতম অগ্রাধিকার।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধ সীমিত রাখার তৎপরতার মধ্যেই কুয়েতের ওপর ইরানের এই সরাসরি হামলা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সর্বাত্মক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
kalprakash.com/IM