বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬ | ১০ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১২ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | সন্ধ্যা ৭:০৬:৪৪

ঢাকায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে ঈদে মিলাদুন্নবীর জশনে জুলুস ও শান্তি মহাসমাবেশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৭
শেয়ার: mail
ঢাকায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে ঈদে মিলাদুন্নবীর জশনে জুলুস ও শান্তি মহাসমাবেশ

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও ১২ই রবিউল আউয়াল উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস। কালেমাখচিত পতাকা, প্ল্যাকার্ড, রঙিন ফেস্টুন ও জাতীয় পতাকায় মুখর হয়ে ওঠে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার আয়োজনে সংগঠনটির সভাপতি শাহসূফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারীর নেতৃত্বে এ জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়।

ভোরের আলো ফোটার আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ সুফিবাদী জনতা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো উদ্যান বিশাল মিলনমেলায় পরিণত হয়। নারী, পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। অংশগ্রহণকারীদের পরনে ছিল সাদা পোশাক ও মাথায় সাদা টুপি।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পশ্চিম গেট থেকে শুরু হওয়া বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি দোয়েল চত্বর, শিক্ষা ভবন ও সচিবালয় সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রার অগ্রভাগে থাকা বিশাল ব্যানারে লেখা ছিল ‘ইয়া নবী সালামু আলাইকা’ ও ‘ইয়া রাসুল সালামু আলাইকা’। শোভাযাত্রার পুরো পথ মুখরিত ছিল ‘নারায়ে তাকবির’ ও ‘নারায়ে রিসালাত’সহ নানা ধর্মীয় স্লোগানে। পরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক শান্তি মহাসমাবেশ।

মহাসমাবেশে শাহসূফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানবজাতির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমতস্বরূপ। তাঁর সুমহান শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণ করলেই সমাজে ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও চিরস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। রাসুলুল্লাহ (সা.) বিশ্ববাসীকে সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও মানবিকতার শিক্ষা দিয়েছেন। বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, সংঘাত ও অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবীর তাৎপর্য কেবল আনুষ্ঠানিক উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ ধারণ করে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

আন্তর্জাতিক শান্তি মহাসমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজাদা সৈয়দ মেহবুবে মইনুদ্দীন এবং মইনীয়া যুব ফোরামের সভাপতি ও ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি অব সুফি স্কলারসের আহ্বায়ক শাহজাদা সৈয়দ মাশুক মইনুদ্দীন। বিদেশি অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য দেন তুরস্কের শেখ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ এলহুসেইনী, মরক্কোর শেখ প্রফেসর ড. লাখদার দেরফুফি ও শায়খ সিদিআলী মা আলায়নিন, কানাডার শেখ ফয়সাল হামিদ আব্দুর রাজ্জাক, শ্রীলঙ্কার শেখ মোহাম্মদ রেজা বিন আব্দুল লতিফ আল মাগদুমী, জর্ডানের শেখ সাফওয়ান (মোহাম্মদ রিদা) আলী ওদেইবাত, সৌদি আরবের শেখ আল রাশেদ আব্দুল্লাহ হাম্মাদা, সোমালিয়ার শেখ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ওমর সৈয়দ, অস্ট্রেলিয়ার শেখ ডক্টর আব্দুল নাসের শামসিন, মিসরের শেখ প্রফেসর ড. ইউসরি রোশদি এল সাইয়্যিদ জাবর আল হাসানী, লেবাননের শেখ রিয়াদ হাসান বাজু, ব্রাজিলের শায়খ মোহাম্মদ আল মাগারবি, পাকিস্তানের শায়খ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জাফর ইকবাল জালালী এবং ভারতের শায়খ নাবিল আখতার নওয়াজী।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন ও আলোচনায় অংশ নেন গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ইমেরিটাস ডক্টর আনিসুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার সাধারণ সম্পাদক খলিফা আলমগীর খান, মাওলানা মুফতী বাকি বিল্লাহ আজহারী, মাওলানা রুহুল আমিন ভূঁইয়া প্রমুখ।

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও শান্তির বার্তায় মুখর এ আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে দেশ, জাতি, বিশ্বশান্তি ও সমগ্র মানবতার কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে। মোনাজাত পরিচালনা করেন মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের বর্তমান ইমাম শাহসূফী ড. শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

ঢাকায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে ঈদে মিলাদুন্নবীর জশনে জুলুস ও শান্তি মহাসমাবেশ

বিস্তারিত কমেন্টে