চলতি বছরের প্রথমার্ধে প্রত্যাশার চেয়েও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির হাত ধরে অনন্য উচ্চতার দিকে এগিয়ে চলেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ভিয়েতনামের অর্থনীতি। বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মন্দাভাবের মধ্যেও দেশটির অর্থনীতিতে এই ইতিবাচক উল্লম্ফন অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থাগুলোর প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৭ সাল নাগাদ ভিয়েতনামের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি রেকর্ড ১১ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ভিয়েতনামের অর্থনীতি বার্ষিক ভিত্তিতে ৮ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পূর্বাভাস দেওয়া ৭ শতাংশের চেয়েও বেশি। আর বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) দেশটির সামগ্রিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশে। মূলত শিল্প ও নির্মাণ খাতের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি, তৈরি পোশাক ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের অভাবনীয় পুনরুত্থান এবং অভ্যন্তরীণ জোরালো চাহিদাই এই অগ্রগতির পেছনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে।
আন্তর্জাতিক আইনি পরামর্শক সংস্থা ডিএফডিএলের বিশেষজ্ঞ স্টান্ড্রে বেজুইডেনকাউট জানান, ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন ও বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের পুনর্বিন্যাসকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করার সক্ষমতা দেখিয়েছে ভিয়েতনাম। এর ফলে বিশ্ববাজারে একটি নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের সুসংহত করতে পেরেছে দেশটি।
অর্থনৈতিক অগ্রগতির এই ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে ভিয়েতনামের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগেও (এফডিআই)। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটির রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২৬৬ দশমিক ৫২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। একই সময়ে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ ৬১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৩৪ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার।
এদিকে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বরাতে চীনা বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, ২০২৬ সালে ভিয়েতনামের সামগ্রিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৯ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে তা ১১ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। একই সঙ্গে ব্যাংকটি ভিয়েতনামের মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস কমিয়ে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ নির্ধারণ করেছে।
থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের জন্য স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ টিম লিলাহাপান মন্তব্য করেছেন, বৈশ্বিক নানামুখী চাপ থাকা সত্ত্বেও ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ভিয়েতনাম অভাবনীয় অর্থনৈতিক সহনশীলতা প্রদর্শন করেছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ বাজার চাঙ্গা রাখার সমন্বিত নীতির কারণেই দেশটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক লক্ষ্যের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
kalprakash.com/IM