নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল বা সংগঠন ছাড়া যেকোনো রাজনৈতিক দল নির্বিঘ্নে সভা-সমাবেশ করতে পারবে এবং এতে সরকারের কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করার অধিকারও সবার রয়েছে। একই সঙ্গে বিগত সরকারের আমলে কথা বলার অপরাধে লেখক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের গ্রেপ্তারের যে অপসংস্কৃতি ছিল, বর্তমান সরকার তা থেকে পুরোপুরি বের হয়ে এসেছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বিগত ছয় মাসের পরিসংখ্যান তুলে ধরে আইনমন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমান সরকারের সময়ে দেশে কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। পাশাপাশি মিরাজ শেখ নিখোঁজের ঘটনায় কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গুম ও নিখোঁজের অভিযোগ তদন্তে রাষ্ট্র সর্বদা ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে রয়েছে।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আগের খসড়াগুলোতে বেশ কিছু অস্পষ্টতা ও সীমাবদ্ধতা ছিল। তাই যথাযথ যাচাই-বাছাই শেষে আইন দুটি নতুনভাবে সংসদে পাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অথচ এ নিয়ে প্রচার করা হচ্ছে যে সরকার আইন আটকে দিচ্ছে বা বাতিল করছে, যা সঠিক নয়। তিনি আরও জানান, সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ উঠলেও মানবাধিকার কমিশনের তদন্তের সুযোগ থাকবে। তবে আইনের যথাযথ প্রয়োগে নিরপরাধ কোনো ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদের আলোকেই সংবিধান সংশোধনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কোনো যৌক্তিক প্রস্তাব এলে তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে সরকার।
বিগত ১৭ বছরে বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিপুলসংখ্যক মামলা দায়ের করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিচার বিভাগের ওপর সরকারের কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ নেই। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশও অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সবশেষে অতীতের গুম, খুন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করে গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
kalprakash.com/IM