শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬ | ৬ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ৮ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | বিকাল ৪:৫৬:৫৭

রাষ্ট্রপতি কী কী রাষ্ট্রীয় সুবিধা পান?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ২:৫৯
শেয়ার: mail
রাষ্ট্রপতি কী কী রাষ্ট্রীয় সুবিধা পান?

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে তিনি শপথ নেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির বেতন, রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ও সাংবিধানিক ক্ষমতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির বেতন ও সুযোগ-সুবিধা ‘দ্য প্রেসিডেন্টস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (সংশোধন) অ্যাক্ট’ অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। বর্তমানে রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, যা সম্পূর্ণ আয়করমুক্ত। বেতনের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির আপ্যায়ন ও বিনোদনের জন্য বার্ষিক ভাতার ব্যবস্থাও রয়েছে।

রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন। এর সাজসজ্জা, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য যাবতীয় ব্যয় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বহন করা হয়। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি সরকারি গাড়ি ও প্রয়োজনীয় পরিবহন সুবিধা পান। এ ছাড়া বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত হারে ভাতা পাওয়ার বিধান রয়েছে।

রাষ্ট্রপতির জন্য রয়েছে বিশেষ স্বেচ্ছাধীন তহবিল। এ তহবিলে বছরে ২ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকে, যা রাষ্ট্রপতির বিবেচনায় বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা প্রদানে ব্যয় করা যায়। রাষ্ট্রপতি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্যও বিশেষ সুবিধা রয়েছে। দেশের যেকোনো হাসপাতালে তাঁরা বিনামূল্যে চিকিৎসা নিতে পারেন। চিকিৎসকের পরামর্শে বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও সম্পূর্ণ ব্যয় সরকার বহন করে।

রাষ্ট্রপতির বিমানভ্রমণের ক্ষেত্রেও বিশেষ সুবিধা রয়েছে। বর্তমানে এই সুবিধার পরিমাণ বছরে ২৭ লাখ টাকা, যা ২০১৬ সালের আগে ছিল ১৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ মাসিক বেতনের বাইরে সরকারি বাসভবন, সার্বক্ষণিক পরিবহন, চিকিৎসাসেবা, বিদেশ সফরের ভাতা, আপ্যায়ন এবং বিমানভ্রমণসহ নানা রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পান রাষ্ট্রপতি।

সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দুটি ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণে বাধ্য নন—প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে সাধারণত সেই দলের সংসদীয় দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপতি। তবে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।

প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ও পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত সব বিষয় সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত রাখেন। রাষ্ট্রপতি কোনো বিষয় মন্ত্রিসভার বিবেচনার জন্য পাঠাতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করেন। তবে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে কোনো পরামর্শ দিয়েছেন কি না বা দিয়ে থাকলে কী পরামর্শ দিয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো আদালত তদন্ত করতে পারে না।

রাষ্ট্রপতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ক্ষমতা হলো দণ্ড মার্জনা, স্থগিত, হ্রাস বা মওকুফ করা। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া দণ্ড রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে মার্জনা, স্থগিত, হ্রাস বা মওকুফ করতে পারেন।

দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়মুক্তি রয়েছে। তাঁর কার্যকাল চলাকালে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যায় না। তাঁকে গ্রেপ্তার বা কারাগারে পাঠানোর জন্য আদালত থেকে কোনো পরোয়ানাও জারি করা যায় না। তবে রাষ্ট্রপতি সম্পূর্ণভাবে অপসারণের বাইরে নন। সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় তাঁকে অভিশংসন করা যেতে পারে। শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণেও তাঁকে অপসারণের বিধান রয়েছে।

অভিশংসনের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাক্ষরযুক্ত অভিযোগ স্পিকারের কাছে জমা দিতে হয় এবং রাষ্ট্রপতিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হয়। এরপর সংসদের মোট সদস্যের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে প্রস্তাব পাস হলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়।

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির পদের মেয়াদ পাঁচ বছর। তবে উত্তরসূরি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি পদে বহাল থাকেন। একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে মো. আবদুল হামিদ পরপর দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

রাষ্ট্রপতি কী কী রাষ্ট্রীয় সুবিধা পান?

বিস্তারিত কমেন্টে